ব্যর্থ মানুষদের ঘুমানোর ১৪টি বদ অভ্যাস

ঘুম মানুষের জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে না ঘুমালে তা আমনার মানসিক ও শরীরিক উভয় ক্ষেত্রে ক্ষতি করে। ব্যর্থ মানুষদেরও রয়েছে ঘুমের ক্ষেত্রে নানান বদ অভ্যাস। এই অভ্যাসগুলো আপনার থাকলে এখন থেকেই সাবধান হন। কেননা এই অভ্যাসগুলো এক সময় আপনাকে করে তুলব ব্যর্থ।

১. পরের দিনের কাজ ঘুমানোর আগে পরিকল্পনা না করা
ঘুমানোর আগেই পরের দিন কি কাজ করবেন তা ভেবে রাখা উচিত। তা না হলে এলোমেলো চিন্তা শেষে ঘুমালে পরের দিনটিও শুরু হবে আপনার এলোমেলোভাবে। আর এভাবেই বাকিদের থেকে পিছিয়ে পড়বেন আপনি। তাই আগামীকালের রুটিন, আজই ঘুমের আগে ঠিক করে নিন। সফল হতে হলে নিয়ম মেনে চলার বিকল্প নেই।

২. বিছানায় যাওয়ার আগে কিছু সময় চিন্তা না করা
বিছানায় যাওয়ার আগে কিছু সময় চিন্তা না করে হই হট্টগোল করে ঘুমিয়ে যাওয়া ব্যর্থদের অভ্যাস। একজন সফল মানুষ কখনই সেটা করে না। রেট পাওয়ার এক গবেষণায় বলেছেন, ঘুমানোর আগে কিছু সময় চুপ থেকে নিজের দৈনিক কাজের হিসেব রাখালে তা মানুষের ভালো ঘুমে সহায়ক হয়। এই ক্ষেত্রে প্রার্থণা বা মেডিটেশনকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কেননা রাতের প্রার্থণায় সারাদিনের কাজের ভুলগুলোর জন্য ক্ষমা চাওয়া হয়। এতে মানুষ এক ধরণের প্রশান্তি নিয়ে ঘুমাতে পারে।

৩. বিছানায় প্রযুক্ত নিয়ে আসা
এটা বর্তমান সময় ব্যর্থ মানুষের সবচাইতে বড় বৈশিষ্ট্য। গবেষণায় দেখা গেছে নোটিফিকেশন দেখা যাদের অভ্যাস, তারা বিছানায় মোবাইল, ল্যাপটপ বা অন্যকোন গ্যাজেট নিয়ে আসেন। আর সেটির কারণে তাদের ঘুমে বিঘ্ন ঘটে। দীর্ঘ সময় সেই গেজেটের সঙ্গে থাকায় তাদের চোখের ও মস্তিষ্কের ক্ষতি হয়। মানসিকভাবেও এর প্রভাব থেকে যায়। ফলে পরের দিনটি শুরু হয় ক্লান্তি নিয়ে। তাই প্রয়োজন ছাড়া বিছানার কাছে কোন গেজেট রাখা উচিত নয়।

৪. ঘুমানোর আগে সবকিছু নিয়ে দুশ্চিন্তা করা
এক গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যর্থ মানুষ তার অতীত জীবন নিয়ে বেশি ভাবে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আকাশ-কুসুম কল্পনা করে। এটা সবচাইতে বেশি তারা করে ঘুমানোর আগে। কেননা বর্তমানে তাদের সফলতা বলতে কিছু থাকে না। এর প্রভাব থেকে যায় আমাদের ঘুমের মধ্যেও। এ ধরণের মানুষ ঘুমের মধ্যে স্বপ্নও বেশি দেখেন। তাদের এই সমস্যাগুলোর কারণে সকালেও তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকে। গবেষণায় বলা হয়েছে, এর মাধ্যমে ব্যর্থতার এক চক্রে পড়ে যায় তারা। এই চক্র থেকে বের হতে সবার আগে প্রয়োজন ঘুমানোর আগে অতীতের ব্যর্থতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আকাশ-কুসুম ভাবনা না করা। যতটা সম্ভব দুশ্চিন্তা মুক্ত হয়ে ঘুমানো জরুরি।

৫. স্বাস্থ্যকে প্রাধান্য না দেয়া
নিজের স্বাস্থ্যকে প্রাধান্য না দিয়ে এবং সুস্থ্য জীবন চর্চা না করে ঘুমাতে গেলে সেখানেও সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতার সম্মুখিন হতে হবে আপনাকে। যার ফল পড়বে আপনার ব্যক্তি জীবন ও ক্যারিয়ারে। ঘুমানোর আগে ব্রাশ করা, নিয়মিত গোসল করা, নিজের যত্ন নেয়া, ঘুমানোর বিছানা পরিষ্কার রাখা এবং মশা থাকলে তা থেকে বাঁচার উপায় নিশ্চিত করেই ঘুমাতে যাওয়া উচিত। আপনার স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন না নিয়ে শুধু ঘুমানোর জন্য ঘুমালে তা আপনাকে বাড়তি শক্তি না যুগিয়ে উল্টো আপনাকে দুর্বল ও অসুস্থ করতে পারে।

৬. দুপুর ২টার পর ক্যাফেইন জাতীয় খাবার গ্রহণ
আমাদের অনেকেরই অভ্যাস বিকেলে বা সন্ধ্যায় নাস্তার সঙ্গে চা খাওয়া। কিন্তু সত্য হল, আধিকাংশ গবেষণা বিষয়টিকে বাজে অভ্যাস হিসেবে প্রমাণ করেছে। ক্যাফেইন আপনার শরীরকে সতেজ রাখে সেই সঙ্গে ঘুমের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইম তৈরিতে বাঁধা দেয়। এর ফলশ্রুতিতে আপনি ঘুমাতে গেলেও সজাগ থেকে যায় আপনার মস্তিষ্কের একটি অংশ। বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে। এরফলে ঘুমের মধ্যে হাটার অভ্যাসও তৈরি হয় অনেকের। আর সফল মানুষেরা নিশ্চয়ই ঘুমের মধ্যে হাটতে চাইবেন না!

৭. ঘুমানোর আগে অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় গ্রহণ
অ্যালকোহল বা এ জাতীয় পানীয় খেলে একটা ঝিমুনি ভাব আসে। অনেকেই মনে করেন, এতে করে ঘুম ভালো হবে। কিন্তু মার্কিন জাতীয় স্বাস্থ্য ইনিস্টিটিউটের গবেষণা বলছে ভীন্ন কথা। তাদের মতে, অ্যালকোহল বা এ জাতীয় পানীয় আপনাকে দ্রুত ঘুমাতে সাহায্য করে। কিন্তু এরপর এই পানীয় আপনাকে গভীর ঘুমে যেতে বাঁধা দেয়। সে কারণেই অ্যালকোহল খেয়ে কেউ ঘুমালে তারা আশেপাশে হালকা শব্দ হলেও ঘুম ভেঙ্গে যায় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সে নেশায় বুদ হয়ে ওলট-পালট কাজ করে। ব্যক্তি জীবনে এর প্রভাবে পরবর্তী দিনটিতে মানুষ ক্লান্ত ও খিটখিটে মেজাজে থাকে।

৮. ঘুমানোর আগে হালকা নাস্তা
টেক ইনসাইডের ভাষ্যমতে, ঘুমাতে যাবার কিছু সময় আগে হালকা নাস্তা আপনার ঘুমকে ব্যহত করে। এই নাস্তা হজম হওয়ার সময় বাড়তি শক্তি গ্রহণ করে। সেই সঙ্গে এই নাস্তা আপনার শরীরে বাড়তি চর্বি জমা করে। সব মিলিয়ে ব্যর্থ মানুষ হওয়ার জন্য ঘুমাতে যাওয়ার তিন ঘণ্টার মধ্যে নিয়মিত নাস্তা করাই যথেষ্ট।

৯. ঘুমানোর সময় নির্দিষ্ট না রাখা
ব্যর্থ ব্যক্তিদের দৈনিক রুটিনের বালাই থাকে না। আর সে কারণেই তাদের ঘুমানোর সময়ও নির্দিষ্ট থাকে না। এর প্রভাবে আমাদের শরীর ঘড়ি বলে যে বিষয়টি রয়েছে তা কাজ করে না ঠিক মত। সঠিক সময় সঠিক কাজ করার অভ্যাস তৈরি হয় না আমাদের শরীরের। এর ফলে অনেক সময় নিদ্রাহীনতা, অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগা বা একদমই ক্ষুধা না লাগা, ক্লান্তি ও খিটখিটে ভাব তৈরি হওয়াসহ বেশ কিছু সমস্য তৈরি হয়। অন্যদিকে সঠিক সময় ঘুমানোর অভ্যাস না থাকলে রাতে খাবার সময়টাও সঠিক থাকে না। এর ফলে অনেকে দ্রুত মোটা হয়ে যান। সুতরাং সফল হতে হলে নিদ্ধিষ্ট সময়ে ঘুমানো বেশ জরুরি।

১০. ঘরে আলোর উপস্থিতি
হাফিংটন পোস্টের এক রিপোর্ট অনুসারে, ঘরে যে কোন আলো ঘুমানোয় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। সেটা রাস্তার আলো জানালা দিয়ে আসলেও হয়। এমনকি ঘরে মোবাইল চার্জার বা অন্য কোন যন্ত্র থেকে সামান্য আলো বের হলেও তা আপনার ঘুমে ব্যঘাত ঘটাবে। আর সে কারণেই ঘরে কোন আলো না রাখার পরামর্শ দিয়েছে গবেষকেরা।

১১. পরিমাণমত না ঘুমানো
ইংরেজিতে প্রবাদ আছে, ‘দ্রুত ঘুমিয়ে যাও এবং সকাল সকাল জাগো; তুমি হবে স্বাস্থবান, ধনী এবং বুদ্ধিমান।’ ব্যর্থ মানুষেরা এই নিয়ম একেবারেই মানতে পারে না। অনেকই আছেন ঘুমান মাঝ রাতে। আর ওঠেন মধ্য দুপুরে! এতে দিনের একটি বড় অংশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় আপনার শরীরবৃত্তিয় কাজগুলো। তাই সময় মত ঘুমান এবং পরিমাণমত ঘুমিয়ে জেগে উঠুন। নিয়ম করে এই কাজটি করতে পারলে আপনার জীবনে সফলতা আসার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে অনেকাংশে।

১২. গরমের মধ্যে ঘুমিয়ে থাকা
অনেকেই বলেন, আমি যে কোন পরিবেশে ঘুমাতে পারি। এটা আশীর্বাদ হিসেবে মনে করা হলেও নেদারল্যান্ডের একদল গবেষক মনে করেন, গরমের মধ্যে ঘুমিয়ে থাকা মোটের আশীর্বাদ নয়। বরং এরূপ ঘুমে মানুষ আরো ক্লান্ত হয়ে যায়। এই প্রতিবেদনে বলা হয়, গরমে ঘুমিয়ে কেউ ঘামলে তার শরীর থেকে যেই অতিরিক্ত পানি ও লবন বের হয়ে যায় তার পূরণ হয় না। কেননা মানুষটি ঘুমের মধ্যে পানি বা অন্য কোন খাবার গ্রহণ করে না। এর ফলে ঘুম থেকে ওঠার পর সে বাড়তি ক্লান্তি অনুভব করে। সে কারণেই আরাম দায়ক একটি তাপমাত্রায় ঘুমানোর পরামর্শ দিয়েছে গবেষকেরা।

১৩. সারা সপ্তাহ রাত জেগে ছুটির দিন ঘুমানো
সারা সপ্তাহের কর্ম দিবসগুলোতে রাত জেগে ছুটির দিন ঘুমানোতে শরীরের উপকার তেমন হয়না। বরং এর ক্ষতিকর প্রভাবই বেশি। এর ফলে আমাদের শরীবৃত্তিও কাজের চক্র যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হয় আমাদের স্বাস্থ্য। এ ধরণের মানুষ নির্দিষ্ট বয়স শেষে মারাত্মক হৃদরোগ বা হাইপ্রেসার সমস্যায় ভোগেন। সেই সঙ্গে তাদের হাড় ক্ষয়ের পরিমাণও বেশি হয়। সফল ব্যক্তিদের জন্য এটিও কাম্য নয়।

১৪. ঘুম থেকে ওঠার সময় আরো কিছু সময় ঘুমানো
‘পাওয়ার ন্যাপ’ বলে একটা বিষয় আছে। যেখানে মানুষ অফিসের কাজে ক্লান্ত হয়ে চোখ বন্ধ করে ১৫-২০ মিনিট বিশ্রাম নিলে বাড়তি শক্তি পায়। কিন্তু ঘুম থেকে উঠে কেউ যদি আরো ৫-১০ মিনিট ঘুমানোকে ‘পাওয়ার ন্যাপ’র সঙ্গে তুলনা করে, তাহলে ভুল করবেন। কেননা এই ঘুম আপনাকে বাড়তি শক্তি যোগানোর বদলে আরো ক্লান্ত করে তুলবে। ফেলে দিনটি যাবে ক্লান্তিতে। মনোযোগ দিতে পারবেন না কোন কাজে। আর সে কারণেই ঘুম থেকে একবার উঠে গেলে আর ৫-১০ মিনিটের জন্য ঘুম নয়। ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.