এমএনপি সেবার চূড়ান্ত অনুমোদন

নম্বর ঠিক রেখে মোবাইল ফোন অপারেটর পরিবর্তন এমএনপি (মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি) সেবা চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। সোমবার এমএনপি সেবার অপারেটর নিয়োগে লাইসেন্স দিতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। বহু প্রতীক্ষিত এই সেবা শিগগিরই শুরু করা যাবে বলে আশা করছেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ।

এর আগে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম তার ভেরিফায়েড ফেইসবুক পেজে জানান, এমএনপির ফাইলটি দীর্ঘদিন অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল। অবশেষে এটি অনুমোদন পেলো। আমরা অনুমোদনের জন্য পুনরায় সংশোধিত গাইডলাইন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠাই। তার অনুমোদনের পর আবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় এটি। এমএনপি সেবার জন্য সব অনুমোদন গ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। বাকি আছে কেবল আনুষ্ঠানিকতা। মোবাইল অপারেটরদের গ্রাহক পর্যায়ে এই সেবা দেয়ার জন্য কারিগরি (টেকনিক্যাল) বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে সর্বোচ্চ ৬ থেকে ৯ মাস সময় লাগতে পারে। এর মধ্যে জনগণকে তারা এই সেবা দিতে পারবে বলে আশা রাখি।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বলেন, লাইসেন্সের জন্য দামভিত্তিক কোনো নিলাম হবে না, ১০ কোটি টাকা লাইসেন্স ফিতে একটি প্রতিষ্ঠান ১৫ বছরের জন্য এই লাইসেন্স দেয়া হবে। আর সেই প্রতিষ্ঠানকে বেছে নেয়া হবে আবেদনকারীদের মধ্যে ‘বিউটি কনটেস্ট’ এর মাধ্যমে। বিউটি কনটেস্ট প্রক্রিয়ায় একটি কমিটি থাকবে, যারা আবেদনকারীদের আর্থিক সামর্থ্য, কারিগরি দক্ষতা, অভিজ্ঞতার মত বিষয়গুলো নির্দিষ্ট মানদণ্ডে যাচাই-বাছাই করে একটি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্সের জন্য নির্বাচিত করবে। আবেদন পাওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব লাইসেন্স দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী এমএনপি সুবিধা দিতে অপারেটরা গ্রাহকদের কাছ থেকে ৩০ টাকা নিতে পারবে। একবার এমএনপি সুবিধা নেওয়ার পর একজন গ্রাহক আবার নতুন কোনো অপারেটরে যেতে চাইলে তাকে ৯০ দিন অপেক্ষা করতে হবে।

বহু প্রতীক্ষিত এই সুযোগ তৈরির জন্য ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে প্রথম দফা এমএনপি নীতিমালা অনুমোদন করে অর্থ মন্ত্রণালয়। কিন্তু তাতে লাইসেন্স প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হবে কি না- সেই প্রশ্ন উঠলে নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়। কয়েকটি মূল্যায়ন মানদণ্ড যুক্ত করে পরের বছর জানুয়ারিতে এমএনপি নীতিমালার সংশোধিত খসড়া চূড়ান্ত করে বিটিআরসি। জুন মাসে তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।

এরপর নিলামের উদ্যোগ নিয়ে আবেদনকারী ছয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাঁচটিকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়। ২০১৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর নিলামের তারিখও ঠিক করা হয়। কিন্তু তার সপ্তাহখানেক আগে নিলাম স্থগিতের ঘোষণা দেয় বিটিআরসি। আগের নীতিমালায় বলা হয়েছিল, লাইসেন্স দেয়া হবে নিলামের মাধ্যমে। কিন্তু ওই পদ্ধতি পরিবর্তন করে ‘বিউটি কনটেস্ট’ এর মাধ্যমে ‘যোগ্য’ একটি কোম্পানিকে চূড়ান্ত করার নিয়ম যুক্ত করার পর সোমবার লাইসেন্স আবেদনের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করল বিটিআরসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.