সম্ভাবনাময় হাতিয়ার মূল অন্তরায় বিদ্যুৎ!

হাতিয়া: স্থানীয় ইলিশ মাছ, ছেওয়া শুটকী, ধান, ডাল, আলু, বাদাম উৎপাদনে দেশের অন্যতম দ্বীপ নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা। ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও এর মূল অন্তরায় বিদ্যুৎ। প্রায় ৬ লাখ অধিবাসী ও ৪ হাজার বর্গ কিঃ মিঃ দ্বীপ এটি। দ্বীপটিতে ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও বিদ্যুৎ এর স্বল্পতার কারনে কোন উদ্যোক্তার নজর পড়ছে না এ অঞ্চলটি।

বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, ১৯৬২ সালে পূর্ব পাকিস্তানের গর্ভনর আজম খান সুইডেন সরকারের আর্থিক সহায়তায় ৫০ কিলো ওয়ার্ট এর ২টি জেনারেটর দিয়ে দ্বীপাঞ্চল হাতিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ কেন্দ্রের ভিত্তি স্থাপন করেন। সে থেকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ভর্তুকি দিয়ে কোন রকমে চালু আছে। উপজেলায় সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে হাতিয়া একটি পরিপূর্ণ শিল্প নগরী হিসেবে গড়ে উঠবে। ১০ বছরের মধ্যে পুরো হাতিয়াবাসীর আর্থ-সামাজিক অবস্থা পাল্টে যাবে বলে শিল্পোদ্যোক্তরা মনে করেন। তাই হাতিয়ার বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রকে সাব মেরিন ক্যাবল এর মাধ্যমে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড-এ সংযোজনের জোর দাবী এই দ্বীপবাসীর।

শিল্পোদ্যোক্তরা জানান, সাব মেরিন ক্যাবল এর মাধ্যমে হাতিয়ার বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রকে ন্যাশনাল গ্রিডে অন্তর্ভূক্ত করে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হলে হাতিয়ায় ছোট ও মাঝারি ধরনের বিভিন্ন প্রকার শিল্প কারখানা গড়ে উঠবে এবং বিভিন্ন সেক্টর থেকে সরকারি রাজস্ব আয় বাড়বে।

হাতিয়া কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, হাতিয়া বার্ষিক ধান উৎপাদন ১১৬০৮১.৩১ মেঃ টন। বার্ষিক চাহিদা ৫৫৭৩৭.০০ টন এবং বার্ষিক উদ্বৃত্ত ৬০৩৪৪.৩১ টন। ফলে এখানে একাধিক মাঝারি ও বড় ধরনের চাল কল স্থাপন করা যায়।

হাতিয়া মৎস্য অফিস সুত্রে জানা যায়, বার্ষিক মাছ উৎপাদন ৯৭৫৭.০০ টন। বার্ষিক চাহিদা ২৯১.০০ টন এবং বার্ষিক উদ্বৃত্ত ৬৮৪৬.০০ টন। এ উদ্বত্ত মাছ দেশ বিদেশে রপ্তানিযোগ্য। এ মূল্যবান সম্পদকে পচন বা নষ্টের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে দ্বীপে ২/৩টি বড় হিমাগার নির্মান একান্ত প্রয়োজন।

হাতিয়া আবাসিক প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান জানান, জাতীয় গ্রিডে হাতিয়ায় বিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য উর্ধ্বতন মহলে আমাদের সুপারিশ ও প্রস্তাব করা আছে।

তিনি আরো জানান, ২০১৬ সালে ৫ কেবি করে ২টি ইঞ্জিন হাতিয়ায় স্থাপিত হয়। ইঞ্জিন গুলো এসি না থাকায় টানা ৬ ঘন্টা চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এ ইঞ্জিন চালাতে গেলে পাওয়ার ব্যাকআপ লাগে। কিন্তু পাওয়ার ব্যাকআপ দিতে না পারায় সরবরাহ সমস্যার সৃষ্টি হয়। ফলে গ্রাহক ভোগান্তি বাড়ে। এ বছরের আগস্ট মাসের মধ্যেই ২ মেঘা ওয়ার্ট সম্পন্ন আরো ৩টি ইঞ্জিন স্থাপন করা হবে।

প্রতিবেদক/এমআরআর/২৮ জুলাই

Leave a Reply

Your email address will not be published.