২৫০টি সড়ক, ২২০টির বেহাল দশা!

রামগঞ্জ: লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় ২৫০টি সড়কের মধ্যে ২২০টি সড়কের ১৯০ কি.মি. পাকা সড়ক গত একযুগেও মেরামত না হওয়ায় কার্পেটিং উঠে গিয়ে বিশাল গর্ত সৃষ্টি হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে করে যানবাহন চলাচলেও মারাত্মক দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। এসব সড়কে যাতায়াতকালে গাড়ির চাকা যখন বড় গর্ত কিংবা সড়কের বিচ্ছিন্ন অংশে পড়ে তখনই সড়কটি সংস্কারের কথা বলে, কবে হবে সংস্কার? এরকম আলোচনার সরগরম হয়ে উঠে যাত্রীদের মধ্যে। এ সকল রাস্তা দিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে আর পাঠদানে তাদের মন বসে না। এতে ভালো ফলাফল অর্জনে ব্যার্থ হচ্ছে তারা।

স্থানীরা জানান, রামগঞ্জ পৌর শহরের সোনাপুর-চিতৌষি সড়কসহ সংযোগ সড়কগুলোর অবস্থায় খুবই খারাপ। এ ছাড়া উপজেলার সোনাপুর ওয়াপদা সড়ক থেকে শ্রীরামপুর-বাংলাবাজার সড়ক, আলীপুর-সমেশপুর সড়ক, রেজিষ্ট্রি অফিস সড়ক থেকে নারায়নপুর সমিতির বাজার সড়ক, নিচহরা সড়ক, হানুবাইশ-ভাদুর বাবুল মার্কেট সড়ক, বড়বাড়ী-হানুবাইশ সড়ক, ভাদুর-সুধারাম সড়ক, সোনাপুর-পানিয়ালা সড়ক, শৈরশেই-নোয়াগাঁও সড়ক , রামগঞ্জ-টিওরী-এরশাদ হোসেন সড়ক, রামগঞ্জ-সোনাইমুড়ি সড়কসহ ২২০টি সড়ক দিয়ে যান চলাচলতো দুরের কথা পায়ে হাঁটাও দুরুহ হয়ে পড়েছে স্থানীয় মানুষদের কাছে। সবচেয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে গ্রামগঞ্জ থেকে হাসপাতাল আসতে গর্ববতী মহিলা, অসুস্থ রোগী ও দূর্ঘটনায় কবলিত লোকজন।

এ ব্যাপারে অত্র উপজেলার ভুক্তভোগী জনসাধারণ সড়কগুলি মেরামতের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, রামগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

রামগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আকবর আলী লোকজনের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, প্রয়োজনীয় বরাদ্ধ না পাওয়ায় পূর্বে তৈরিকৃত বেশিরভাগ সড়কই সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছেনা। আমরা তারপরও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি প্রয়োজনীয় বরাদ্ধ পেতে।

রামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আকম রুহুল আমিন জানান, রাস্তাগুলির অবস্থা খারাপ এটা আমরা জানি। তবে পর্যায়ক্রমে কাজ হচ্ছে আগামী মাসেও কয়েকটি রাস্তার কাজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বরাদ্ধ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

রামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আবুল খায়ের পাটওয়ারী জানান, আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি মানুষের দূর্ভোগ লাগব করতে। বৃষ্টিবাদল শেষে কিছু সড়ক সংস্কার করা হবে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব লায়ন এম এ আউয়াল জানান, ৮৮টি রাস্তার প্রকল্প করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দফতরে দিয়েছি। এছাড়াও ১৪টি রাস্তার টেন্ডার হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবগুলি রাস্তার কাজ হয়ে যাবে। আমাদের একটু সময় দিতে হবে।

উপজেলা প্রতিনিধি/এমআরআর/২ আগস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published.