ওবায়দুল কাদেরের প্রতি দেশরত্ন শেখ হাসিনার এতো আস্থা ও বিশ্বাস কেন?

মো: নুরুল করিম জুয়েল : 
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি ঐতিহ্যবাহী বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন। এই সংগঠনটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধসহ সকল আন্দোলন সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছে। আর এই সংগঠন এর বর্তমান সভানেত্রী হলেন আমাদের আস্থা বিশ্বাসের একমাত্র ঠিকানা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা। সাধারণ সম্পাদক হলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সফল সভাপতি প্রিয় নেতা ওবায়দুল কাদের এমপি।

এবার মুল কথায় আসি, কেন প্রিয় নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা জনাব ওবায়দুল কাদের’কে সাধারণ সম্পাদক পদে যোগ্য মনে করলেন ?

১. বাঙ্গালী জাতীর অস্তিত্বের ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধ বঙ্গবন্ধুর আহবানে সাড়া দিয়ে প্রিয় নেতা ওবায়দুল কাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা মুজিব বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন।

২. ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

৩. ১৯৭৫ সালে ১৫ই আগষ্ট ঘাতকের বুলেটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্ব-পরিবারে নিহত হলে এর প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মিছিল বের হয় যার নেতৃত্ব দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের এবং এজন্য তিনি কারাবরণ ও করেছেন।

৪. ১৯৭৫ এর পরবর্তী সময়ে যখন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় ঠিক তখনি ১৯৭৭ সালে প্রিয় নেতা ওবায়দুল কাদেরকে সভাপতি করা হয়। তিনি তখন ফরিদপুর কারাগারে বন্দি ছিলেন।

৫. বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি হবার অনেক দিন পর জেল থেকে মুক্তি পেয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে একটি শক্তিশালী ছাত্র সংগঠনে পরিনত করার লক্ষে তিনি দিন রাত পরিশ্রম করেন এবং তাতে সফল ও হয়েছেন বলে ইতিহাস মনে করে।

৬. ১৯৮১ সালে দেশরত্ন শেখ হাসিনা যখন দেশে ফিরে আসেন । তখন তার নেতৃত্বে বাংলার ছাত্র সমাজ প্রিয় নেত্রীকে স্বাগত জানাতে বিমান বন্দরে যান।

তার পর ছাত্রলীগ থেকে বিদায় নেওয়ার পর দেশরত্ন শেখ হাসিনার আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে থাকেন নিজ কৃতিত্ব বলে ।

৭. প্রিয় নেতা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

৮. তিনি নোয়াখালীর মত বিএনপির ঘাঁটি এলাকায় ১৯৯৬ সালে মওদুদ কে হারিয়ে এমপি নির্রাচিত হন।

৯. ২০০১ সাল থেকে ২০০৭ সাল প্রর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য তথা আওয়ামীলীগের জন্য আরেক বিভীষিকাময় সময় পার করতে হয়েছিলো । সে সময় সার্বক্ষনিক প্রিয় নেত্রীর পাশে থেকে দিন রাত পরিশ্রম করে দলের জন্য কাজ করেছেন।

১০. ২০০২ সালে আওয়ামীলীগের জাতীয় কাউন্সিলে নেত্রীর অনুমতিতে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হন। কিন্তু সিনিয়র নেতাদের অনুরোধে জলিল ভাই কে সাধারণ সম্পাদক করলেন আর নেত্রী প্রিয় নেতাকে করলেন এক নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করলেন । তখন প্রিয় নেত্রী কাদের ভাইকে দলের জন্য ভালো ভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন।এবং ঐ সময় বি এন পি জামাত সরকারের নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছিলো । ২০০৪ সালে ২১শে আগষ্ট গ্রেনেড় হামলায় মারাত্বক ভাবে আহত হয় ।

১১. এমনকি নেত্রী দলের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ কাজ কাদের ভাই কে দিয়ে করাতেন। এবং তার নিষ্ঠা ও বিশ্বস্ততার প্রতিদান স্বরুপ তাকে আওয়ামীলীগের সংসদীয় বোর্ডের সদস্য মনোনীত করেন ।

১২. ১/১১ সরকার কাদের ভাইকে গ্রেফতার করে। শুরু হলো নির্যাতনের ষ্ট্রিম ম রোলার, তারপর মুক্তি পেলেন ২০০৮ সালের নির্বাচনের অল্প কিছুদিন আগে।আবার নির্বাচনী যুদ্ধে মওদুদ কে হারিয়ে বিজয়ী হলেন।

১৩. ২০০৯ সালের জাতীয় সম্মেলনে নেত্রী কাদের ভাইকে সভাপতি মন্ডলির সদস্য মনোনিত করেন।

১৪. হঠাৎ করে বাংলাদেশের বড় মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতুর নির্মাণে বিশ্ব ব্যাংক অর্থদান বন্ধ করে দিলে তখন নেত্রী প্রিয় কাদের ভাইয়ের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের কারণে যোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্বে দেন। “ক্রাইসিস ম্যানেজার” হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার অল্প কিছু দিনের মধ্যে তিনি তার কর্ম পরিকল্পনা ও সক্ষমতার মাধ্যমে মানুষের ভালোবাসা ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এবং সরকারী বড় বড় মেগা প্রকল্পগুলো কাদের ভাইয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হচ্ছে।

১৫. বিগত জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে বিএনপি জামায়াতের তান্ডবলীলার সময় যখন আওয়ামীলীগ সভানেত্রীর কার্যালয় নেতা-কর্মী শুন্য হয়ে পডে সে দু:সময়ে প্রিয় নেত্রী কাদের ভাইকে নিয়মিত পার্টি অফিস এবং দলের সকল কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেন। এর পর থেকে নেত্রীর নির্দেশে নিয়মিত পার্টি অফিস নেতা কর্মীদের নিয়ে সরগরম করে তোলেন এবং সারা দেশের নেতা কর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন।

১৬. ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগ পুনরায় ক্ষমতায় আসার কিছু দিন পর উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে নির্বাচনে প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে আওয়ামীলীগের ভরাডুবি হয়। সে মূহুর্তে প্রিয় নেত্রী কাদের ভাইকে বিশেষ দায়িত্ব প্রদান করেন এবং তিনি সফলও হয়েছেন।

১৭. প্রিয় নেত্রী আস্থা ও বিশ্বাস রেখে পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ের লক্ষ্যে সমন্বয়কের দায়িত্ব দেন। সেটাও তিনি সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

১৮. সর্বশেষ আওয়ামীলীগের জাতীয় সম্মলনে প্রিয় নেতা কাদের ভাইয়ের সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মত ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব প্রদান করেন।

১৯. প্রিয় নেতা কাদের ভাই বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পরে জেলায় জেলায় সাংগঠনিক সফর করে সংগঠনকে গতিশীল করার লক্ষে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ঢাকায় থাকলে কেন্দ্রীয় পার্টি অফিসে দৈনিক দুই বার অফিসে যান। নেতা কর্মীদের অভিযোগ অনুযোগ শুনে সমাধান করার চেষ্টা করেন।

এমনকি বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগ, বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগ, তাঁতী লীগ দীর্ঘ ১২-১৩ বছর পরে সফল

সম্মেলন আয়োজনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

চলমান…….

লেখক : মো: নুরুল করিম জুয়েল 
সহ সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.