পরশুরামে কোরবানে বিক্রির জন্য প্রস্তুত কোটি টাকার গরু

পরশুরাম: রাজনীতি ও জনপ্রতিনিধিত্বে সাফল্যের পর ফেনীর পরশুরামে দেশী গরুর বানিজ্যিক খামার গড়ে তোলে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পরশুরাম পৌরসভার মেয়র নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সাজেল, হয়ে উঠেছেন একজন আদর্শ খামারি। তাঁর খামারে আসন্ন কোরবানীর ইদে বিক্রির জন্য প্রস্তুত রয়েছে আড়াই’শ গরু। গত কয়েক বছর ধরে ভারতীয় গরু আমদানি কমে যাওয়ায় পরশুরামে দেশি গরুর চাহিদা বেড়ে গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ২০১৫ সালে পৌরসভার গুথুমা গ্রামে করলিয়া পুকুর পাড়ে নিজ মালিকানাধিন প্রায় ৫ একর জায়গার উপর শখের বসে গড়ে তোলেন পরশুরামে প্রথম দেশীয় গরুর বানিজ্যিক খামার। বর্তমানে আড়াই’শ গরু পালন করা হচ্ছে খামারে। প্রতিটি গরুই বাজারে বিক্রির উপযোগি। আসন্ন কোরবানির ইদে বিক্রি করা হবে এসব গরু। এখনও কোরবানিকে সামনে রেখে স্থানীয় ক্রেতারা খামারে আসতে শুরু করেছেন। খামারের দায়িত্বে থাকা মো. দুলাল জানান, রাত-দিন গরুগুলোকে পরিচর্যা করতে হয়। প্রতিদিন ভূসি, ঘাস, খৈল ও খড় বাবদ প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয় খামারে। এছাড়া প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারাও সহযোগিতা করেন।

নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সাজেল গরুর খামার করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দিয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষের। ১৫ জন শ্রমিক মাসিক বেতনে গরুর খামারে কাজ করেন। এছাড়া খড়, ঘাস ও গরুর খাবার সরবরাহের জন্য প্রায় ৩০জন নিয়োজিত রয়েছেন। খামারে কাজ করা রিয়াজ, এবাদুল, নুর ইসলাম, মানিকসহ কয়েকজন জানান, এ খামারের মাধ্যমে আমাদের মতো অনেক দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এদিকে গত ২ বছরে এ খামার থেকে প্রায় ২শ গরু দেড় কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে। গত বেশ কয়েক বছর ধরে শিং, কৈ,পাবদা, মাগুরসহ দেশীয় প্রজাতির মাছ চাষ করে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ মৎস্য চাষী হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সাজেল।

পরশুরাম পৌরসভার মেয়র ও খামারের মালিক নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সাজেল বলেন, সম্পূর্ন দেশীয় পদ্ধতিতে এসব গরু পালন করা হচ্ছে। শুধু ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য খামার করেছি। এবার একটি ডেইরি ফার্ম করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো. ইসমাইল হোসেন জানান, ব্যক্তি উদ্যোগে বিশাল গরুর খামার স্থাপন করে দৃস্টান্ত স্থাপন করেছেন পৌর মেয়র। এ ধরনের খামারে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রুহুল আমিন জানান, পৌর মেয়রের এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এ ধরনের বানিজ্যিক খামার জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখবে।

আবদুল্লাহ আল মামুন/এমআরআর/১০ আগস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published.