সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে সরকার বিচলিত-মওদুদ

কোম্পানীগঞ্জ: বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, সুপ্রীম কোর্টের রায়ের মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এরায়ে সরকার সম্পুর্ণ ভাবে বিচলিত হয়ে গেছে।

সরকার এখন নড়বড়ে অবস্থায় আছে। তারা দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায় মানতে চায় না। অন্য দিকে এনিয়ে সরকার জনগণের কাছেও যেতে পারছে না। ষোড়শ সংশোধনী রায়ের মধ্যে অনেক বাস্তবমুখী কথা বলা হয়েছে। এরায়ের মাধ্যমে দেশের মানুষের মনের মধ্যে পুঞ্জিভূত ক্ষোভ,দুঃখ ব্যাথা, বেদনা অনেকটা লাঘভ হয়েছে।

মওদুদ আহমদ শুক্রবার দুপুরে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের সিরাজরপুর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামে তাঁর নিজ বাড়িতে কবিরহাট উপজেলা,সদরপূর্বাঞ্চল,কবিরহাট পৌরসভা,ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড সমূহের বিএনপির নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

কবিরহাট পৌরসভা বিএনপির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, কবিরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র ফখরুল ইসলাম দুলাল, বিএনপি নেতা নাজমুল হুদা ফরহাদ,কামরুল হুদা চৌধুরী লিটন,বেলায়েত হোসেন খোকন প্রমূখ।

মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতিরা তাঁদের বিবেক অনুযায়ী তাঁরা রায় দিয়েছেন। বিচার পতিরা কারো মুখের দিকে তাকিয়ে রায় দেননি । বিচারপতিরা কোন বিচ্ছিন্ন একটি দিক নয়। তাঁরা এ দেশের মানুষের একটি অংশ। বিচার বিভাগ দেশ ও জাতির একটি অংশ। প্রশাসন,সংসদ,আইন শৃংখলা এর সাথে জড়িত। বিচারপতিরা রায়ে যা সম্পুর্ণ ভাবে আলোচনা করেছেন। এখন সর্বোচ্চ আদালত বলছে, দেশে আইন শৃংখলা অতি দূর্বল ।

আইন শৃংখলা বাহিনী দেশের বর্তমান নাজুক অবস্থাতে অনেক কিছুই ম্যানেজ করতে পারছে না। যখন রায়ে বলা হয়,এ সরকারের জবাবদিহিতা নেই। দূর্ণীতি ব্যাপকভাবে সীমাহীন হয়ে গেছে। একথা গুলো ষোড়শ সংশোধনী রায়ে আসাতে আওয়ামী লীগ অত্যন্ত ক্ষুব্দ হয়ে গেছে। সরকারী দলের ক্ষোভ প্রকাশ করেও কোন লাভ নেই। এরায় মানতে হবে। রায়ের বিষয়ে কারও কোন আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে রিভিউ পিটিশান করার সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন,বিএনপি’র ওপর যতই অত্যাচার, নির্যাতন,জেল জুলুম,মিথ্যা মামলা,গুম, খুন, অপহরণ, গুপ্ত হত্যা,বন্দুক যুদ্ধের নামে বিচার বহির্ভূত হত্যা যতই করুন না কেন তাতে কিছুই আসে যায় না। সরকার ও সরকারী দলের এসব অপকর্মের কারণে বিএনপি পূর্বের চাইতে অনেক শক্তিশালি হয়েছে।

মওদুদ আহমদ আরও বলেন,কবিরহাট পৌরসভা হলে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ অনুষ্ঠান করার কথা ছিল। জেলা প্রশাসক ও সরকার বিএনপিকে অনুষ্ঠান করার অনুমতি দেয়নি।এটাই প্রমাণ করে এসরকার গণতান্ত্রীক সরকার নয়। এসরকার একটি ফ্যাসিবাদি ও স্বৈরাচারী সরকার। আওয়ামী লীগ আইনের শাসনে বিশ্বাস করে না। তারা চায় না বাংলাদেশে কোন বিরোধী দল থাকুক। কিন্ত বাংলাদেশের মানুষ প্রমাণ করছে এদেশে বিরোধী দল আছে এবং বিরোধী দল থাকবে।

তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে অনেক সমাগম হয়। পুলিশ বিনা উস্কানীতে বিএনপির সভাপতি হাজি আবদুল হাই সেলিম, বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র কামাল উদ্দিন চৌধুরীসহ নেতাকর্মীদের ওপর লাঠি চার্জ করে ১০ জনকে আহত করেছে। শান্তিপুর্নভাবে অবস্থান করছিল বিএনপির নেতাকর্মীরা। পুলিশ তাদেরকে রাস্তায়ও দাঁড়াতে দেয়নি। তিনি এহামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক/এমআরআর/১১ আগস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published.