রেললাইন সংযোগ স্থাপনের জন্য ভারত সরকারের অর্থ অনুমোদন

ফেনী: ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বিলোনিয়া থেকে ফেনী পর্যন্ত প্রস্তাবিত রেললাইন সংযোগ কাজ শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। ইতিমধ্যে ভারতের অংশে কাজ শুরু করে দিয়েছে ভারত সরকার। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার প্রস্তাবিত রেললাইনের সমীক্ষার জন্য ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ অনুমোদন দিয়েছে। গত শুক্রবার ভারতের রাজ্য মহাকরন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে ভারতের ত্রিপুরা থেকে প্রকাশিত একাধিক দৈনিক পত্রিকা সংবাদ শিরোনাম করেছে।
ভারতের বিলোনিয়া প্রেস ক্লাবের শিবরাজ চক্রবর্তী নামের এক সাংবাদিক জানান, আগরতা সাব্রুম রেললাইন যাচ্ছে ভারতের বিলোনিয়া হয়ে বাংলাদেশের পরশুরাম হয়ে ফেনী পর্যন্ত। যার দুরত্ব ২৫ কিলোমিটার। ফেনী পর্যন্ত ভারতীয় অর্থেই রেললাইন স্থাপন হচ্ছে বলে জানিয়েছে ত্রিপুরার প্রশাসন। ভারতের অংশে কাজ শুরু হলেও বাংলাদেশের অংশে কোন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছেনা।
এদিকে আগামী ২৮ আগস্ট ঢাকায় বাংলাদেশ ভারত উভয় দেশের যৌথ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ভারতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিবেন ভারতের পরিবহন মন্ত্রনালয়ের সচিব সমর জিৎ ভৌমিক। তবে বাংলাদেশের পক্ষে কে নেতৃত্ব দেবেন তা স্থানীয় প্রশাসন অবহিত নন। ওই বৈঠকে আগরতলা-আখাউড়া, বিলোনিয়া-ফেনী রেল সংযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও সমঝোতা চুক্তি হবে বলে ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্র নিশ্চিত করেছে।
ভারতের বিলোনিয়ায় কর্মরত এক সাংবাদিক ও ত্রিপুরার গনমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আগরতলা, আখাউড়া ও বিলোনিয়া ইতিমধ্যে রেললাইন স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহন কাজ শুরু হয়েছে। জানা গেছে, আগরতলা ষ্টেশন থেকে বাংলাদেশের বিলোনিয়া সীমান্ত পর্যন্ত মোট ৬৭ একর জমি অধিগ্রহন করা হবে। ইতিমধ্যে ৪০ একর জমি অধিগ্রহন করা হয়েছে। জমির মালিকদের এই পর্যন্ত ২২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরন পরিশোধ করা হয়েছে। ত্রিপুরার জেলা প্রশাসন আগামী সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে অধিগ্রহনকৃত জমি রেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করবে। ভারতের বিলোনিয়া থেকে প্রকাশিত পত্রিকার প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ রয়েছে।
ত্রিপুরার জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আগরতলা আখাউড়া ষ্টেশানের দুরত্ব ১৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৫ কিলোমিটার ত্রিপুরা অংশে এই রেল সংযোগ স্থাপন হলে আশুগঞ্জ পোর্ট ও চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে আদান-প্রদান সহজ হবে।
অপরদিকে ভারতের বিলোনিয়া বাংলাদেশের বিলোনিয়া হয়ে পরশুরাম ও ফেনী পর্যন্ত রেললাইন সংযোগ স্থাপন হলে চট্টগ্রামের সাথে পন্য আদান-প্রদান সহজ হবে। ভারতের ভাষ্য মতে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রেলপথে ফেনী হয়ে ভারতের সমগ্র উত্তর পুর্বাঞ্চলে পৌছানো সম্ভব হবে। ভারতে পক্ষ বিলোনিয়া-ফেনী রেললাইন সংযোগের কাজ শুরু করেছে বলে ভারতীয় গনমাধ্যম ও ত্রিপুরা সরকারী দপ্তর থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বিলোনিয়া স্থল বন্দর শ্রমিক কল্যান সমিতির সভাপতি মো. ইব্রাহিম জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অংশে রেললাইন সংযোগ স্থাপনের জন্য ভারতে ইতিমধ্যে কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

প্রতিনিধি/নোয়াখালীনিউজ/এসইউ

Leave a Reply

Your email address will not be published.