পারিবারিক আদালতে মামলা করেছেন বাঁধন

বিনোদন ডেক্স:

কিছু দিন আগে অভিনেত্রী আজমেরী বাঁধন আর তার মেয়ে সায়রার মালয়েশিয়ায় ভ্রমণের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তাদের এই ছবিকে কেন্দ্রে রেখে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ভিন্ন ভিন্ন অ্যাঙ্গেলে সংবাদ প্রকাশ করেছিল। লঙ্কাউইয়ের দ্বীপে, কুয়ালালামপুরে ‘টুইন টাওয়ারের’ সামনে, সমুদ্রের নিচে, প্রাণীরলঙ্কাউইয়ের ওরিয়েন্টাল ভিলেজের ত্রিমাত্রিক আর্ট মিউজিয়ামে ঘুরে বেড়িয়েছেন তারা। আর স্মৃতি ধরে রেখেছিলেন ক্যামেরায়।
নজড়কারা সব ছবি। একটা প্রশ্ন মনে আসে এই ছবিগুলো ক্যামেরায় ধারণ করেছিলেন কে?

সম্প্রতি এই প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় অভিনেত্রী বাঁধনের। ক্যামেরা কারিগরের নাম প্রকাশ করার আগে তিনি জানালেন, তার জীবনে বয়ে যাওয়া এক ঝড়ের গল্প। যে ঝড় ছোট ছোট স্বপ্নগুলোকে উড়িয়ে নিয়ে গেছে দূরে। দূরে বহুদূরে চলে গেছে তার স্বপ্নের ঘর। বাঁধন বলেন, আমি সংসারী একটা মেয়ে। সংসার করবো বলেই বিয়ের পর শোবিজের সকল কাজ গুটিয়ে নেই। অল্প কিছুদিনের মধ্যে সন্তান ধারণ করি। কিন্তু সংসার আমাকে গ্রহণ করেনি। ভাগ্যে জুটেছে পরকীয়ার অপবাদ। সমস্ত অপবাদ অবমাননা আর মিথ্যে আশ্বাসকে প্রশ্রয় না দিয়ে আমি মেয়েকে তার বাবা আর মাকে একসঙ্গে কাছে পাবার সুযোগ করে দিতে চেয়েছিলাম। তাই জোড়া লাগাতে চেয়েছিলাম ভাঙ্গাঘর। আর সেইজন্যই মেয়েকে নিয়ে মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলাম তার বাবা (মাশরুর সিদ্দিকী)ও সঙ্গে ছিলো আমাদের সঙ্গে। ছবিগুলো সায়রার বাবার তোলা।’

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে তাহলে সমস্যা হলো কোথায়? বাঁধনের উত্তর ‘মালয়েশিয়া থেকে ফেরার কিছুদিন পরে আমি জানতে পারি মাশরুর বিয়ে করেছে। তার বর্তমাণ স্ত্রী কানাডার নাগরিক। কিন্তু এই বিষয়ে আমাকে কিছুই জানতে বা বুঝতে দিতে চায়নি মাশরুর সিদ্দিকী। তো যাইহোক, এরপর সায়রাকে সে তার মিরপুরের বাসায় বেড়াতে নিয়ে যায়। মাশরুর আমাকে জানায়, সে তার বর্তমান স্ত্রীর সঙ্গে কানাডায় বসবাস করবে। সব থেকে বড় কথা মাশরুর সিদ্দিকী এখন মেয়েকে কানাডায় নিয়ে যেতে চায়ছে। সে আমাকে এও বলেছে দেশে মেয়ের ফিউচার নাই।’

বর্তমান কি পদক্ষেপ নিচ্ছেন বাঁধন তাও জানালেন। বললেন, আইনি আশ্রয় নেয়া ছাড়া তার কাছে আর কোন পদক্ষেপ নেই। আর সেই পদক্ষেপটিই নিয়েছেন তিনি। পারিবারিক আদালতে মামলা করেছেন তিনি। সেটা চলছে। মেয়ে সায়রা রয়েছে বাঁধনের কাছেই। একজন মা হিসেবে, স্বাবলম্বী হিসেবে, সুস্থ্য মানুষ হিসেবে তিনি চাইছেন বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময পর্যন্ত মেয়েকে নিজের ছায়ায় রাখতে।

কতদিন পর্যন্ত মেয়েকে নিজের কাছাকাছি রাখতে চান?’এমন প্রশ্নের জবাবে বাঁধন বলেন, ‘বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী একটি কন্যাশিশু মায়ের কাছে যতোদিন থাকতে পারে ততোদিন আমার কাছেই থাকবে। এরপর মেয়ে যে সিদ্ধান্ত নেবে সেই সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আমি তার সিদ্ধান্ত বদলে কোন হস্তক্ষেপ করবো না। বাবা অথবা মায়ের কাছেই নয় যদি মনে করে বিদেশে বা চাঁদে গিয়ে থাকবে তাতেও আপত্তি করবো না।

বাঁধন মাশরুর সিদ্দিকীর নাম উল্লেখ করে বলেন, ‘মেয়ের জন্মের পর কোন খোঁজ রাখেনি সে। এখন হঠাত করে মেয়েকে দেশ ছাড়া করতে চাইছে। এখন আমার প্রশ্ন একজন বাবা হয়ে কি করে এতোটুকু বাচ্চাকে কি করে তার মায়ের কাছ থেকে আলাদা করতে চায়?

উল্লেখ্য, গত ঈদে কোন নাটকে কাজ করেননি বাঁধন। তবে নতুন কাজ হাতে নিতে শুরু করেছেন তিনি। এই দুঃসময়ে বাঁধনকে যে বা যারা সহযোগিতা করছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published.