লক্ষ্মীপুরে ড্রিংকিং ওয়াটারে বাড়ছে মৃত্যুর ঝুঁকি

লক্ষ্মীপুর: পানির অপর নাম জীবন। আর সেই জীবন বাঁচাতে পানি পান করে থাকে সবাই। বিশুদ্ধ পানি পানে মানুষ থাকে সুস্থ্য। আর ময়লা পানি পানে মানুষের মরণ ডেকে আনে। এমন বিষয়গুলো জেনেও লক্ষ্মীপুরের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মানুষকে খাওয়াচ্ছে নেংরা পরিবেশে প্রক্রিয়াজাতকৃত অস্বাস্থ্যকর পানি। তবে সচেতন মহল মনে করছেন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পুরাতন বোতলে বাজারজাত করা পানি পান করে বাড়ছে মৃত্যুর বুঁকি।

জানা যায়, শিল্প নগরী এলাকায় ন্যাশনাল ড্রিংকিং ওয়াটার, সদর উপজেলার খিলবাইছা নামক স্থানে তাজ ড্রিংকিং ওয়াটার ও রামগতি সড়কের দক্ষিণ তেমুহনী এলাকায় মারিয়া ড্রিংকিং ওয়াটার নামের এসব প্রতিষ্ঠান ময়লা আর দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশে প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে ‘ফিল্ডার পানি’। প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন থাকলেও বোতল বা জারে ব্যবহার হচ্ছে না বিএসটিআইয়ের লোগো। এসব প্রতিষ্ঠান নিয়মনীতিকে উপেক্ষা করে নির্বিগ্নে চালিয়ে যাচ্ছে মিনারেল ওয়াটার প্রক্রিয়াকরণ। আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স থাকলেও তাদের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অত্যাধুনিক ল্যাবের ব্যবস্থাও নেই। নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রক্রিয়া করা এ পানি পান করে ডায়রিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে লক্ষ্মীপুর শহরসহ গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষ। পড়ছে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। জেলা শহরের বিভিন্ন খাবার হোটেলসহ গ্রামগঞ্জে প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার পানি বাজারজাত করছে এসব প্রতিষ্ঠান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিসিক শিল্প নগরী এলাকায় ন্যাশনাল ড্রিংকিং ওয়াটার নামে এ প্রতিষ্ঠানে পানি প্রক্রিয়া করা হচ্ছে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। বোতলে নেই কোনো মেয়াদ উত্তীর্ণ তারিখ, তাছাড়া ব্যবহার করা হচ্ছে না বিএসটিআই লোগো। অন্ধকারাচ্ছন্ন ল্যাব, নেই কোনো বাল্ব। কক্ষে প্রবেশের সময় পা পরিষ্কার করে প্রবেশ করার কথা থাকলেও তা মানছেনা কর্মচারীরা। তাছাড়া সুযোগ বুঝে সরাসরি মটার থেকে পানি বোতলজাত করছে বলে অভিযোগ রয়েছে এসব ড্রিংকিং ওয়াটার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

ন্যাশনাল ড্রিংকিং ওয়াটারের স্বত্ত্বাধিকারী আমিনুল ইসলাম জানান, লক্ষ্মীপুরে ন্যাশনাল ড্রিংকিং ওয়াটার সরকারের নীতিমালা অনুসরণ করে ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছে। বাকী ড্রিংকিং ওয়াটারগুলো অনিয়মতান্ত্রিকভাবে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছে। অথচ এসব বিষয়ে প্রশাসনের কোনো হস্তক্ষেপ না থাকায় এবং বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে নির্বিগ্নে এসব প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিনিয়ত পানি বাজারজাত করছে।

অভিযোগ রয়েছে জেলার রামগঞ্জ উপজেলায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অনুমোদন বিহীন টেস্টি ড্রিংকিং ওয়াটার ও চন্দ্রগঞ্জ থানা এলাকায় মুন ড্রিংকিং ওয়াটার নামের প্রতিষ্ঠানগুলো অবৈধভাবে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের রমরমা ব্যবসা। একদিকে সরকার যেমন রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তেমনি প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষও।

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) সহকারি পরিচালক (চট্রগ্রাম বিভাগ) মোস্তাক আহম্মদ জানান, লক্ষ্মীপুরে খাওয়ার পানি সরবরাহকারী ৪টি প্রতিষ্ঠান তাদের কাছে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছিল। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির উপস্থিতি ও বিশুদ্ধতার মাত্রা পরিমাপ করে এর মধ্যে লাইন্সেস দেয়া হয় ৩টি প্রতিষ্ঠানকে। অন্য ১টি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে লাইসেন্স না পেয়েও অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিবেদক/নোয়াখালীনিউজ/এসইউ

Leave a Reply

Your email address will not be published.