সুবর্ণচরে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

সুবর্ণচর: নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এক নারী (২৫) কে ধর্ষণ ও মারধর করার অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (৫সেপ্টেম্বর) দুপুরে চরবাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজ্জামেল হোসেন ও তার সহযোগি বদিউল প্রকাশ আফছারকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ভিকটিম একই ইউনিয়নের মধ্য চরবাটা গ্রামের মৃত আলী আহমদের মেয়ে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার চেয়ারম্যান ও আফছার ভিকটিমকে রাতভর ইউপি পরিষদের একটি কক্ষে আটক রেখে লাঠি দিয়ে বেদম মারধর ও ধর্ষণ করে। যার ফলে তার পুরো শরীরে রক্তাক্ত জখম হয়েছে। নির্যাতনের পর শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। পরে, তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি স্থানীয় সংবাদকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে অবহিত করলে তারা আইনের আশ্রয় নিতে বলেন।

এক পর্যায়ে দুপুরে ভিকটিম চরজব্বার থানায় অভিযোগ করতে গেলে প্রথমে পুলিশ মামলা নিতে রাজি হয়নি। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মি ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের চাপের মুখে পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করেন।

ভিকটিম অভিযোগ করে বলেন, তার একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। স্বামী নিয়মিত ভরণ-পোষণ দেয় না এবং কোনো প্রকার যোগাযোগও করে না। এরই মধ্যে হাতিয়া উপজেলার নঙ্গলিয়া গ্রামের ভূমিহীন বাজার সংলগ্ন রবিউল হোসেন নামে এক ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার। শুরুতে ছেলেটি নিজেকে অবিবাহিত বললেও সম্প্রতি ছেলেটি বিবাহিত বলে জানতে পারেন তিনি। রবিউল হোসেন বিবাহিত জানার পর, তার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে রাজি হয়নি সে। বেশ কিছুদিন যোগাযোগ না করায় ছেলেটি বুধবার রাতে তাদের বাড়িতে আসলে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে অবহিত করে ভিকটিম।

পরে রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে চেয়ারম্যান গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে ওই ছেলে, অভিযোগকারী নারী, তার তিন ভাই ও বোনকে পরিষদে ডেকে আনে। একপর্যায়ে তার অভিযোগ শোনার পর চেয়ারম্যান উল্টো তাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন এবং ছেলেকেও মারধর করেন। পরে অন্য সকলকে বের করে দিয়ে তাকে একটি কক্ষে আটক রেখে জোর করে বিবস্ত্র করে ধর্ষণ করে চেয়ারম্যান। বিষয়টি বাহিরে গিয়ে প্রকাশ করে দিব বলাতে পুনরায় তাকে বিবস্ত্র করে লাঠি দিয়ে বেদম মারধর করে বলে অভিযোগ করে ভিকটিম।

সকল অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান মোজ্জামেল হোসেন জানান, আমাকে এলাকায় কোণঠাসা করার জন্য অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

চরজব্বর থানার পুলিশ-পরিদর্শক (তদন্ত) ইকবাল হোসেন বলেন, দুপুরে চেয়ারম্যান’সহ ২ জনের বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণের অভিযোগ করেছে এক নারী। অভিযোগটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষার পর ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের বেশকিছু চিহ্ন পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদক/নোয়াখালীনিউজ/এসইউ

Leave a Reply

Your email address will not be published.