কোম্পানীগঞ্জে পিতার বাহিনীতে পুত্র জখম

কোম্পানীগঞ্জ: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা ও আমেরিকা প্রবাসী নুরনবী কমান্ডার কর্তৃক তাঁর নিজের ছেলেকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কাজে তিনি খুনিও ভাড়া করেছেন বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগ নেতা নুরনবী কমান্ডারের ভাড়া করা সন্ত্রাসীদের হামলায় সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাবাজারে তার ছেলে নুর হোসেন খানসাবসহ ৪ জন আহত হয়েছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানাযায়, সোমবার সন্ধ্যায় মুছাপুর ইউনিয়নের বাংলাবাজারের ব্যাংক রোড এলাকায় এ সন্ত্রাসী হামলা হয়। আ’লীগ নেতা নুর নবী কমান্ডারের নির্দেশে তার ভগ্নিপতি মানিক (৫০), মানিকের ছেলে রিয়াদ (২৮) ও মিঠুসহ (২৫) ও সোনাগাজী উপজেলার চরদরবেশ এলাকা থেকে ভাড়া করা সশস্ত্র সন্ত্রাসী পিয়াস (২৩) এর নেতৃত্বে আরো ৪/৫জন সন্ত্রাসী নূর নবী কমান্ডারের ছেলে নূর হোসেন খানসাবকে (৩৫) হত্যার উদ্দেশ্যে সশস্ত্র হামলা চালায়।

এসময় নূর হোসেন খান সাবকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হন তার চাচা আবু তাহের (৫৫), চাচাতো ভাই মোঃ ফারুক হোসেন (২৪) ও ভাতিজা দেলোয়ার হোসেন (২৩)। পরবর্তীতে এলাকাবাসী সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়। আহতদেরকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়েছে।

এ ঘটনায় সংবাদ পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মোঃ রবিউল হক ও এসআই সুমন বড়ুয়া কোম্পানীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে আহতদের সাথে কথঅ বলেন।

নূর হোসেন খান সাব জানান, নুর নবী কমান্ডার আমার বাবা হলেও তিনি একজন প্রতারক। তিনি প্রথমে আমার মা মাজেদা খাতুনকে (৬০) বিবাহ করেন। এ সংসারে আমরা ৪ ভাই বোন। এর পর তিনি বিয়ে করেন, মুছাপুর ইউনিয়নের বাংলা বাজার সংলগ্ন সিকদার সড়কের পাশে বেচার বাড়ির সফি উল্যার মেয়ে জাকেরা খাতুনকে। এ সংসারে ৫ সন্তান রয়েছে। এর পর বিয়ে করেন, ঢাকার বিক্রম পুরের গুলশান আরা বেগম নামে এক মহিলাকে। এ সংসারে রয়েছে এক সন্তান।

তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হলে তিনি ১৯৮৮ সালে দেশ ছেড়ে আমেরিকা চলে যান। সেখানে গিয়ে তিনি আমাদের আর গুলশান আরার কোন খোঁজ খবর নেননি। এক পর্যায়ে গুলশান আরা তাকে তালাক দিয়ে দেন। কিন্তু আমার মা তাঁর অপেক্ষায় থাকেন।

সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরে এলেও তিনি আমাদের কোন খোঁজ খবর নেননি। তিনি তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী জাকেরা খাতুনকে নিয়েই আছেন। আমরা আমাদের অসুস্থ্য মায়ের ভরন পোষন ও চিকিৎসা করানো জন্য বললেও তিনি তা করতে অস্বীকৃতি জানান। এক পর্যায়ে আমি প্রতিবাদ করলে তিনি আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে হত্যা করতে সন্ত্রাসী ভাড়া করে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে নুর নবী কমান্ডারের সাথে তার ব্যবহৃত মুঠো ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

সূত্রে জানা যায, ৩৪/১৯৮৩নং মামলায় ১৯৯০সালে বিজ্ঞ আদালত রায় ঘোষনা করেন। রায়ে নুর নবী কমান্ডারকে ৫ বছরের সাজা প্রদান করে। বর্তমানে তিনি সাজা মাথায় নিয়েই এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মোঃ রবিউল হক জানান, এখনও কোন অভিযোগ আসেনি। কেউ অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা প্রতিনিধি/এমআরআর/১০ অক্টোবর

Leave a Reply

Your email address will not be published.