বদলে গেছেন দাগনভূঞার মিলন চেয়ারম্যান…

দাগনভুঞা: ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ মিলন আর আগের মতো নেই। তিনি অনেকটাই বদলে গেছেন। সম্প্রতি পবিত্র হজ¦বত্র পালন শেষে দেশে ফিরলে দৈনন্দিন রুটিন, পোষাক, আচরণ ও কাজ-কর্মে তার এই পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ মিলন এর কর্মকান্ড স্বাভাবিক ভাবেই চলছিল। গত ঈদুল আযহার আগে তিনি মা সহ পবিত্র হজ¦ পালনের জন্য পাসপোর্ট, ভিসা, টিকেট সবই প্রস্তুত। কিন্তু মহান আল্লাহর ইচ্ছায় হজ¦ ফ্লাইটের কয়েকদিন আগে তার মা গোলনাহার বেগম পেনু ইহলোক ত্যাগ করেন। মায়ের দাফন শেষ করে মিলন চেয়ারম্যান একাই পবিত্র হজ¦ব্রত পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যান। পবিত্র একটি মুহুর্তে মাকে হারানোর ব্যথা তাকে অনেকটা বদলে দেয়। হজ¦ পালন শেষে দেশে ফিরলে তার দৈনন্দিন রুটিন, পোষাক, আচরণ ও কাজ-কর্মে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। তিনি আগের মতো নেই। তার দিনের কর্মসূচি শুরু হয় তাহাজ্জুদ সালাত দিয়ে এরপর ফজরের নামাজ শেষে একটু বিশ্রাম শেষে নাস্তা সেরে রওয়ানা দেন ইউনিয়ন পরিষদে শুরু করেন অফিস কর্মযজ্ঞ। দুপুরে জোহরের নামাযের আযান দিলেই অফিসে কর্মরতদের নামাযের জন্য আহবান করেন। জামাতের সাথে আদায় করেন জোহরের নামাজ। দুপুরের খাওয়া সেরে আবার শুরু করেন অফিসিয়াল কাজকর্ম। অফিস শেষে চলে যান নিজ বাড়ি আহমদপুরে যেখানে তার মা চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। নিজ মসজিদে জামাতের সাথে আদায় করেন আসরের নামাজ। এরপর মায়ের জন্য দোয়া ও জিয়ারত চলে প্রতিদিন। নামাজ শেষে এলাকার লোকজনের নানা সমস্যার সমাধান ও খোজ খবর নিয়ে কাটে বিকেলটা। মাগরিব ও এশার নামাজ জামাতের সাথে আদায় করে মায়ের জন্য দোয়া শেষে ফিরে যান ফেনীস্থ নিজ বাসায়।

সিলোনীয়া হাই স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক আলী আশরাফ বলেন, আমাদের চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ মিলন আর আগের মতো নেই। তার দৈনন্দিন রুটিন, পোষাক, আচরণ ও কাজ-কর্মে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করেছি। ইসলামী জীবন ধারায় তার এই পরিবর্তন আল্লাহর অশেষ রহমত। তিনি পবিত্র হজ¦ব্রত পালন শেষে দেশে ফিরে জায়লস্কর ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদের ইমামদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেন। এলাকার মুরব্বীরা যাতে বিকেলে চায়ের দোকানে আলাপচারিতায় মগ্ন না থেকে শুদ্ধ ভাবে কুরআন তেলাওয়াত ও সহীহ ভাবে নামাজ শিক্ষা করতে পারে এজন্য ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৯টি সহীহ কুরআন ও নামাজ শিক্ষা কেন্দ্র চালু করেন। পর্যায়ক্রমে ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে এটি চালু করার ঘোষণা দেন। এই মহৎ উদ্যোগ তার ভেতর লুকিয়ে থাকা ইসলাম চর্চার বহি:প্রকাশ ঘটেছে।

ফেনী প্রতিনিধি/নোয়াখালীনিউজ/এসইউ

Leave a Reply

Your email address will not be published.