পিংকুর নেতৃত্বে সু-সংগঠিত লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগ

লক্ষ্মীপুর : একসময় লক্ষ্মীপুর জেলাকে বিএনপির ঘাঁটি বলা হতো। তখন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এ জেলাকে ডাকা হতো অলক্ষী নামে। বরাবরাই বিএনপি-জামায়াত অধ্যুষিত জনপদ হিসেবে পরিচিত ছিল জেলাটি। অতীতে এই জেলার রাজনীতিতে কখনোই সুবিধা করতে পারেনি আওয়ামী লীগ। রাজনীতির মাঠে বিএনপি-জামায়াতের কাছে কোনঠাসা হয়ে থাকতে হতো বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে। রাজনীতির মাঠে যেমনিভাবে ছিল অসহায় অবস্থায়, তেমনিই ভোটের মাঠেও ছিল কোণঠাসা। জেলার ইউনিয়ন, পৌরসভা ও জাতীয় নির্বাচনে দলটির বেশিরভাগ প্রার্থীকে পরাজিত হতে হতো বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীদের কাছে।

স্বাধীনতার পর থেকে ২০১৪ সালের আগের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী জাতীয় নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হতে পারেনি। তবে বর্তমানে লক্ষ্মীপুর জেলায় আওয়ামী লীগের এ অবস্থা অতীত। পাল্টাতে শুরু করেছে দলটির অতীত অবস্থান।

২০১৫ সালের ৩মার্চ লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের মাধ্যমে লক্ষ্মীপুর থেকে অলক্ষী তাড়ানোর দায়িত্ব দিয়ে মিয়া মো: গোলাম ফারুক পিংকুকে সভাপতি করে নতুন কমিটি দেওয়া হয়। সভাপতির দায়িত্ব পেয়ে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দল গোছানোর কাজ শুরু করেন গোলাম ফারুক পিংকু। ইতোমধ্যে আওয়ামী রাজনীতিতে লক্ষ্মীপুরের অলক্ষী দূর করতে এগিয়েছেন অনেক দূর। তিনি সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিকভাবে শক্তি, সমর্থন বৃদ্ধি করা ও ভোটের মাঠে দলকে সকলের কাছে আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন। নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে প্রতিটি সমাবেশে উপস্থিত থাকছেন দলের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু। বক্তব্যের মধ্যে তুলে ধরছেন বর্তমান সরকারে সাফল্য ও উন্নয়ন কর্মকান্ড। এতে তৃণমূল পর্যায়ে ঝিমিয়ে থাকা দলের নেতাকর্মীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। দায়িত্ব পাওয়ার পরে মূল দলের পাশাপাশি দলের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোকে কর্মীবান্ধব ও সংগঠিত করতে কাজ করছেন তিনি। হাজির হচ্ছেন মূল দলসহ সহযোগী সংগঠনের সকল অনুষ্ঠানে। শক্তি সঞ্চার করছেন নেতাকর্মীদের মনোবলে। কর্মীবান্ধব এই নেতাকে কাছে পেয়ে খুশি দলের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা। দলের এমন উন্নতিতে গত প্রায় ৩ বছরে জেলা ও উপজেলার বেশ কয়েকটি সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও মন্ত্রীরা। গোলাম ফারুক পিংকুর নেতৃত্বে স্বাধীনতার পর যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক সু-সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ দলে পরিণত হয়েছে লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগ। রাজনীতির মাঠে যেমনিভাবে এগিয়েছে আওয়ামী লীগ, তেমনী ভোটের মাঠেও জনগণের আস্থা অর্জন করেছে তারা। গোলাম ফারুক পিংকু দলের দায়িত্ব পাওয়ার পর জেলার ৫৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪৮ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১টি বাদে সব কয়টি ইউনিয়নে আওয়ামীগীল সমর্থক ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলার ৪টি পৌরসভার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিপুল ভোটের মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এরই মধ্যে লক্ষ্মীপুরের গণমানুষের চাওয়ার প্রেক্ষিতে গত ১৪ মার্চ লক্ষ্মীপুর সফর করেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্মীপুরে আগমনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ করে দলীয় নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করেন গোলম ফারুক পিংকু। পরে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে ১৪মার্চ প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে জন-সমুদ্রে পরিণত করে তোলেন তিনি।

লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিয়া মো: গোলাম ফারুক পিংকু বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জেলা জুড়ে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে কাজ করছেন তিনি। নতুন করে সম্মেলনের মাধ্যমে দলের কমিটি গঠন করছেন। এছাড়া প্রায় প্রতিদিনই ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে গিয়ে কর্মী সমাবেশ ও সম্মেলন করছেন। সর্বদাই পাশে থাকছেন দলীয় নেতাকর্মীদের। এতে করে ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে দলের শক্তি ও সমর্থন। তিনি আরো বলেন, আগামী নির্বাচনে জেলার ৪টি আসনে নৌকার প্রার্থীকে জয় লাভ করার জন্য নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান জেলা আওয়ামী লীগের এ নেতা।

প্রতিনিধি/নোয়াখালীনিউজ/এসইউ

Leave a Reply

Your email address will not be published.