সোনাগাজীতে দু’টি বাল্য বিয়ে ঠেকাল প্রশাসন

সোনাগাজী: ফেনীর সোনাগাজীতে প্রশাসনের তৎপরতায় বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেয়েছে দুই স্কুল ছাত্রী। সোমবার ও মঙ্গলবার ওই দুই ছাত্রীর বাল্যবিবাহ ঠেকিয়ে দিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামের দশম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীর সঙ্গে আমিরাবাদ ইউনিয়নের আহম্মদপুর গ্রামের আবুল কালামের (ছদ্মনাম) বিয়ের দিন ধার্য ছিল মঙ্গলবার। গোপনে সংবাদ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় ইউপি সদস্য আলা উদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে ওই ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেন।

এদিকে গত সোমবার বিকেলে মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ভোয়াগ গ্রামের সপ্তম শ্রেণির আরেক ছাত্রীর সঙ্গে পৌর এলাকার চর গণেশ গ্রামের এক সৌদি প্রবাসী আবদুল হালিমের (ছদ্মনাম) বিয়ের কথা বার্তা ও চুড়ান্ত হয়। হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে রাতেই মোবাইল ফোনে বিয়ে পড়ানোর জন্য উভয় পরিবারের লোকজন তড়িগড়ি করতে থাকে। এমনকি গোপনে ছাত্রীকে স্থানীয় একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়ে যায় পরিবারের লোকজন। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান সোমবার রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুর রহিমকে সঙ্গে নিয়ে ক্লিনিকে গিয়ে ওই ছাত্রীর বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দেন।

মতিগঞ্জ ও বগাদানা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আলা উদ্দিন ও আবদুর রহিম জানান, তাঁদের উপস্থিতিতে ওই দুই ছাত্রীর বিয়ে বন্ধ করে ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত মেয়েকে বিয়ে দেবেনা মর্মে উভয় ছাত্রীর বাবা-মা ও আত্মীয়দের কাছ থেকে অঙ্গিকারনামা নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, এখন ওই দুই ছাত্রী আবার স্কুলে যাবে লেখাপড়া করবে। তিনি বলেন, মেয়েরা আমাদের বোঝা নয়। তাঁরাও এদেশের নাগরিক ও সম্পদ। অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে একটি মেয়ের জীবন নষ্ট করা যাবেনা। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ফেনী প্রতিনিধি/নোয়াখালীনিউজ/এসইউ

Leave a Reply

Your email address will not be published.