‘ফ্রি স্টাইলে টাকা আদায়’

ফেনী: ফেনীতে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা যে যার মতো ফি আদায় করছে। উন্নয়ন ফি, কেন্দ্র ফি, কোচিংসহ নানা অজুহাত দেখিয়ে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই ‘ফ্রি স্টাইলে’ বেশি বেশি টাকা আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সন্তানের ফরম পূরণে অর্থ যোগান করতে গিয়ে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের অভিভাবকরা হিমশিম খাচ্ছে। এ নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে স্কুল ও মাদ্রাসাগুলোর ‘অবৈধ আবদার’ মেটাচ্ছেন তারা। আগামী ফেব্রুয়ারিতে এবারের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষা শুরু হবে। এখন চলছে ফরম পূরণের কাজ।

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সফি উদ্দিন বলেন, ফরম পূরণে বোর্ডের নিয়মের বাইরে বাড়তি টাকা নেয়ার কোন সুযোগ নাই। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা না নিতে জেলা অফিস থেকে বারবার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারপরও বেশি টাকা নেয় এমন মৌখিক অভিযোগ আসছে। কিন্তু কেউ এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করছেন না। প্রমাণের অভাবে অপকর্মের হোতারা বেঁচে যাচ্ছে।

বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য ১ হাজার ৬৯৫ টাকা ও অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য ১ হাজার ৭৯৫ টাকা। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ১ হাজার ৭৮৫ টাকা ও অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য ১ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করছে।
অথচ ফেনী শহরসহ উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বোর্ড নির্ধারিত নিয়মকে তোয়াক্কা না করে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা আদায় করছে। বোর্ড ফি’র বাইরে সেশন চার্জ ও টিউশন ফি হিসেবে তিন মাসের টাকা নিচ্ছেন। জানা যায়, এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীরা দশম শ্রেণিতে একবার সেশন চার্জ দিয়েছে। যেহেতু নতুন বছরে তারা ক্লাস করছে না, তাই তাদের কাছ থেকে সেশন চার্জ নেয়া যাবে না। টিউশন ফিও দুই মাসের বেশি নেয়া যাবে না।
ফেনী সেন্ট্রাল হাইস্কুল থেকে ২০১৮ সালের এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, ‘স্কুল কর্তৃপক্ষ ফরম পূরণে ৬ হাজার টাকা দাবি করলে অনেক অনুনয়-বিনয়ের পর ৫ হাজার টাকা দিয়ে ফরম পূরণ করেছি।’ তিনি এর প্রতিকার দাবি করেন।
দাগনভূঞা উপজেলার সিন্দুরপুর অদুদিয়া দাখিল মাদ্রাসার এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জিম্মি করে গলাকাটা ফি আদায় করছে। কিন্তু টাকা দেয়ার পর মাদ্রাসা থেকে কোনো রসিদ দেননি।
এসএসসি ও দাখিলে ফরম পূরণকে কেন্দ্র করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অলিখিত বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। রসিদ ছাড়াই টাকা নেয়ায় অপকর্মের হোতারা পার পেয়ে যাচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, ফেনীর প্রায় প্রতিষ্ঠান বাড়তি ফি আদায় করছে। এক্ষেত্রে স্কুল ও মাদ্রাসাগুলো কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। বোর্ড ফি আলাদা নোটিশে দিয়ে আদায় করা হচ্ছে। কোচিং ফি’সহ বাকি অর্থ নেয় পৃথকভাবে। কোচিং- মডেল টেস্ট ফি, বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী, বার্ষিক চার্জ, পরিবহন, তিন মাসের বেতন, পিকনিক, বিদায় অনুষ্ঠান ইত্যাদি খাতে টাকা নেয়া হচ্ছে। প্রমাণ না রাখতে অনেক প্রতিষ্ঠানই রসিদ দিচ্ছে না। তাই শিক্ষার নামে বাণিজ্য বন্ধ ও অভিভাবকদের জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ ভূমিকা দাবি করেন।

ফেনী প্রতিনিধ/নোয়াখালীনিউজ/এসইউ

Leave a Reply

Your email address will not be published.