কোম্পানীগঞ্জে এসএসসি ও দাখিল ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ

কোম্পানীগঞ্জ: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় এসএসসি-দাখিল পরীক্ষার ফরম পূরণে উন্নয়ন ফি, কেন্দ্র ফি, কোচিংসহ নানা অজুহাত দেখিয়ে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে সন্তানের ফরম পূরণে অর্থ যোগান করতে গিয়ে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের অভিভাবকরা হিমশিম খাচ্ছে। এ নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে স্কুল ও মাদ্রাসাগুলোর ‘অবৈধ আবদার’ মেটাচ্ছেন তারা। আগামী ফেব্রুয়ারিতে এবারের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষা শুরু হবে। এখন চলছে ফরম পূরণের কাজ।

জানাযায়, উপজেলার ২টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২৮টি বেসরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১৬টি দাখিল মাদ্রাসায় রয়েছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায় করায় অভিভাবকরা ক্ষুব্দ হয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। স্কুল কর্তৃপক্ষের কোচিং ও মডেল টেস্টের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ভুক্তভোগি অভিভাবকরা স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্যদের কাছে ধরনা দিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছে।

অপরদিকে মাকসুদাহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮৫ জন পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরনে ২ হাজার ১০০ টাকা করে নিয়েছে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা প্রতিবাদ করলে শনিবার মাকসুদাহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ ১২ জন পরিক্ষার্থীকে আদায়কৃত অতিরিক্ত টাকা থেকে ২শ ৫০টাকা করে ফেরত দেয়া হয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ফরিদা আক্তার খানম এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য ১ হাজার ৬৯৫ টাকা ও অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য ১ হাজার ৭৯৫ টাকা। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ১ হাজার ৭৮৫ টাকা ও অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য ১ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করছে। উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বোর্ড নির্ধারিত নিয়মকে তোয়াক্কা না করে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা আদায় করছে। বোর্ড ফি’র বাইরে সেশন চার্জ ও টিউশন ফি হিসেবে তিন মাসের টাকা নিচ্ছেন।

জানা যায়, এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীরা দশম শ্রেণিতে একবার সেশন চার্জ দিয়েছে। যেহেতু নতুন বছরে তারা ক্লাস করছে না, তাই তাদের কাছ থেকে সেশন চার্জ নেয়া যাবে না। টিউশন ফিও দুই মাসের বেশি নেয়া যাবে না।

অভিযোগ রয়েছে, কোম্পানীগঞ্জে প্রায় প্রতিষ্ঠান বাড়তি ফি আদায় করছে। এক্ষেত্রে স্কুল ও মাদ্রাসাগুলো কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। বোর্ড ফি আলাদা নোটিশে দিয়ে আদায় করা হচ্ছে। কোচিং ফি’সহ বাকি অর্থ নেয় পৃথকভাবে। কোচিং- মডেল টেস্ট ফি, বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী, বার্ষিক চার্জ, পরিবহন, তিন মাসের বেতন, পিকনিক, বিদায় অনুষ্ঠান ইত্যাদি খাতে টাকা নেয়া হচ্ছে। প্রমাণ না রাখতে অনেক প্রতিষ্ঠানই রসিদ দিচ্ছে না। তাই শিক্ষার নামে বাণিজ্য বন্ধ ও অভিভাবকদের জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ ভূমিকা দাবি করেন।

প্রতিবেদক/নোয়াখালীনিউজ/এসইউ

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.