বেগমগঞ্জে নকলে বাধা দেওয়ায় ২ শিক্ষক লাঞ্চিত

নোয়াখালী: নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার লতিফপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে জেএসসি পরীক্ষায় নকলে বাধা দেওয়ায় গত রোববার দুই শিক্ষককে নকলকারীর অভিভাবকরা লাঞ্চিত করেছেন। এতে লিটন চন্দ্র দাস নামে একজন শিক্ষক গুরুতর আহত হয়ে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অপর শিক্ষক নাহিদা আক্তারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে এ ঘটনার প্রতিবাদে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন-সমাবেশ করেছে লাঞ্চিত শিক্ষকদের বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধন-সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইউনুছ নবী মানিক, শিক্ষক আবু জাফর, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এডভোকেট এ বি এম ইউসুফ, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য আবদুল কাদের ও ডা. আবুল কালাম প্রমুখ।

জানা যায়, লাঞ্চিত দুই শিক্ষক জেএসসি পরীক্ষায় লতিফপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত রোববার গণিত পরীক্ষার সময় কেন্দ্রের ভিতর নকল করার চেষ্টা করে শিক্ষার্থীরা। এসময় এক ছাত্রীকে নকলে বাধা দেয় পরিদর্শক লিটন চন্দ্র দাস। পরে ঘটনার বিষয় ওই ছাত্রী বাহিরে জানিয়ে দেয়।

এক পর্যায়ে লিটন চন্দ্র দাস ও অপর শিক্ষক নাহিদা আক্তার সহ হল থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় কেন্দ্র বাউন্ডারির মধ্যে লিটন চন্দ্র দাসকে বেদম মারধর করা হয়। এসময় নাহিদাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্চিত করে একটি কক্ষে দুই ঘন্টা আটক রাখে। পরে চারদিক থেকে শিক্ষক ও লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা চলে যায়।

পরবর্তীতে গুরুতর আহত অবস্থায় শিক্ষক লিটন চন্দ্র দাসকে দ্রুত নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ওই কেন্দ্রের শিক্ষকরা মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) পরীক্ষায় পরিদর্শক হিসেবে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং সোমবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন-সমাবেশ করতে বাধ্য হয়। সমাবেশ থেকে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করা হয়।

পরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মাহবুবুল আলম মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা। এসময় তিনি ঘটনা পরিদর্শন পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেন।

এদিকে লতিফপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সহকারি সচিব ও লাউতলি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন জানান, কে›্দ্ের নকল করতে বাধা দেওয়ায় ওই দুই শিক্ষক লাঞ্চিত করা হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষকগণ মঙ্গলবারের পরীক্ষায় পরিদর্শক হিসেবে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন তিনি।

শিক্ষকদের একাধিক সূত্র জানায়, জেলার প্রায় সবগুলো কেন্দ্রে নকল চলছে। বেশিরভাগ কেন্দ্রে শিক্ষকরাও নকলে সহায়তা করছে। ভালো শিক্ষকরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। নকলে বাধা দিলে মানসিক ও শারীরিকভাবে লাঞ্চিত হতে হচ্ছে শিক্ষকদের। প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তাকেও অসৎ শিক্ষক ও কেন্দ্র সুপারগণ অবৈধভাবে বাধ্য করে ফেলেছে।

বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফরিদা খানম শিক্ষক লাঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, দুই শিক্ষককে লাঞ্চিত করেছে বহিরাগতরা। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করার জন্য তিনি বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে শিক্ষকদের করা অভিযোগে অভিযুক্তদের নাম না থাকায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।

প্রতিবেদক/নোয়াখালীনিউজ/এসইউ

Leave a Reply

Your email address will not be published.