নোবিপ্রবিতে আট দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন

শিক্ষা: নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের ১ম বর্ষের ভর্তি ফি কমানো’সহ আট দফা দাবিতে ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে শিক্ষার্থীরা। এতে ২০১৭-১৮ বর্ষের ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে আছে।

সোমবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় শিক্ষার্থীরা এসব দাবিতে ক্লাস বর্জন করে ভর্তিস্থল হাজী ইদ্রিস অডিটোরিয়ামের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নিয়েছে। সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করছে।

শিক্ষার্থীদের দাবিসমূহের মধ্যে রয়েছে, ১. ভর্তি ফি ২৫ হাজার টাকার স্থলে কমিয়ে ৫ হাজার টাকা করতে হবে। ২. ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ফি ফেরত দিতে হবে। ৩. বিভাগীয় ট্রান্সক্রিপ্ট ২০ এবং মূল সনদ পত্র ৫০ টাকা করতে হবে। ৪. ব্যাকলগের বর্ধিত ফি প্রত্যাহার করতে হবে এবং তা ৩০০ টাকা করতে হবে এবং ইম্প্রুভমেন্টের সর্বন্মিম জিপিএ ৩.০০ করতে হবে। ৫. ওয়ান স্টপ এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করতে হবে। ৬. শিক্ষার্থী বান্ধব ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে হবে এবং শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে ছাত্র প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করতে হবে। ৭. আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে এবং হলের খাদ্যে ভর্তুকি দিতে হবে। ৮. পুরো ক্যাম্পাসে নিরবিচ্ছিন ওয়াই-ফাই চালু করতে হবে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, যেখানে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কম। সেখানে নোবিপ্রবিতে প্রতি বছরই ক্রমান্বয়ে ভর্তি ফি বাড়ানোর ধারা অব্যাহত রাখছে। এতে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী অতিরিক্ত ভর্তি ফি’র কারণে ভর্তি হতে পারছে না। ভর্তিইচ্ছুক অনেক শিক্ষার্থীর অভিভাবকরাও এতে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। শিক্ষার্থীরা আরো জানান, দীর্ঘ দিন থেকে তারা ভর্তি ফি কমানো সহ আট দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের বিভিন্ন সময় আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন না করে উল্টে শিক্ষার্থীদের উপর নানাভাবে বাড়তি ব্যয় চাপিয়ে দিচ্ছে। তাদের এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে তারা আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টর মুশফিকুর রহমান ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. ইউসুফ মিয়া দাবির প্রতি একাত্বতা প্রকাশ করে দাবিসমূহ বাস্তবায়নে প্রশাসনিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে আগামী এক মাসের মধ্যে সমাধানের আশ্বাস দেন। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এমন মৌখিক প্রতিশ্রুতি প্রত্যাখান করে এবিষয়ে একটি লিখিত প্রস্তাবনা দেওয়ার দাবি জানান।

এদিকে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক/এমআরআর/৪ ডিসেম্বর

Leave a Reply

Your email address will not be published.