অনার্স ক্লাসে না উঠার আগে মোবাইল নই-ডেপুটি স্পিকার

হাতিয়া: দেশের সব মাদের প্রতি আহ্বান করে জাতীয় জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বি মিয়া বলেছেন, ‘আপনারা আপনাদের সন্তানদের অন্তত অনার্স ক্লাস পর্যন্ত মোবাইল ফোন দিবেন না। এতে শিক্ষার্থীরা নষ্ট হয়ে যায়। আর আপনার যা পারেন, আমরা কিন্তু তা পারি না।’

শনিবার দুপুরে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এএম উচ্চ বিদ্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি নেপোলিয়ানের একটি উক্তি উল্লেখ করে বলেন, ‘তোমরা আমাকে একটা শিক্ষিত মা দাও, আমি একটি শিক্ষিত জাতি দেব। দেখেন আপনারা পারেন, আমরা কিন্তু পারিনা। এখন আমরা সবাই রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত। আমাদের চেয়ে মায়েরাই তার সন্তানের বেশি খবর রাখেন। আবার আমাদের মায়েদের কারণেই সন্তানরা নষ্ট হয়ে যায়। সেই দিকেই খেয়াল রেখে বলতে চাই, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনার সন্তান অন্তত অনার্স ক্লাসে ভর্তি না হয়েছে ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে মোবাইল ফোন কিনে দিবেন না।

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষক সম্পর্কে যখন আমাদের কাছে প্রশ্ন আসে তখন আমাদের লজ্জা লাগে। যখন শুনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য শিক্ষকরাই দায়ী, তখন নিজেকে খুব হেও প্রতিপন্ন মনে করি। লজ্জা লাগে, দুঃখ লাগে। এ জাতি যাবে কোথায়? যে দেশের মানুষ একটি যুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করেছে সেই দেশের শিক্ষকরা একটি দুষ্কর্ম করবে তা ভাবতেও পারছি না। আমরা এও দেখি যখন শিক্ষার্থীদের সবাই ‘এ’ প্লাস পায় কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে গিয়ে মাত্র একজন পাস করে।

এসময় তিনি হাতিয়া উপজেলাকে জেলা ঘোষণা করার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, আপনি সংসদে ৭১ ও ১৭১ বিধিতে নোটিশ করেন, আমরা চেষ্টা করব। তবে আর যাই হোক বিষয়টি নিয়ে অন্তত আলোচনা হবে। প্রধানমন্ত্রী জানবেন।

হাতিয়ার বিদ্যুৎ সমস্যার বিষয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অনুরোধ করে বলেন, ‘আপনারা যদি প্রশাসনিকভাবে কোথাও কোনো চিঠি পাঠিয়ে থাকেন তার একটা কপি আমাকে দেন আমি বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই সহযোগিতা করব। ’
স্পিকার আরও বলেন, ‘শিক্ষায় আমরা অনেক এগিয়েছি কিন্তু কোয়ালিটি শিক্ষার অনেক অভাব। আমাদের কোয়ালিটি পূর্ণ শিক্ষা প্রয়োজন।’ এ সময় তিনি শিক্ষকদের প্রাইভেট ও টিউশনি থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।

স্কুল প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য আশরাফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদৌস, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. ওয়ালী উল্যাহ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মো. রেজাউল করিম, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আশিকুল ইসলাম, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফজলে এলাহী মিলাদ প্রমুখ।

শামীমুজ্জামান শামীম/এমআরআর/২৩ ডিসেম্বর

Leave a Reply

Your email address will not be published.