মহিপাল ফ্লাইওভার, দর্শনার্থীদের আগ্রহকে বহুগুণ বাড়িয়েছে

দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে সদ্য নির্মিত ফেনীর মহিপাল ৬ লেন ফ্লাইওভার। চলতি বছরের ৪ জানুয়ারী উদ্বোধনের পর থেকে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটে আসছে মানুষ। ফটোসেশন, সেলফি কোন কিছুই বাদ যাচ্ছে না যুবক-যুবতিসহ সব বয়সী মানুষের। তবে মহিপাল ফ্লাইওভারের রাতের সৌন্দর্য দর্শনার্থীদের আগ্রহকে আরো বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে মহিপাল ফ্লাইওভারের সৌন্দর্য দেখতে আসেন আসমা আক্তার ও সিরাজুল ইসলাম দম্পতি। সাথে ৮ বছরের শিমু সন্তান সিয়াম। স্ত্রী-সন্তানের পিড়াপিড়িতে মোটর সাইকেলে ফ্লাইওভার দেখাতে নিয়ে আসেন। বেসরকারী একটি কোম্পানীতে চাকরি করায় দিনে আসতে পারেননি। কেমন লাগছে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, অসম্ভব সুন্দর। অনেকটা রাজধানীর হাতির ঝিলের মতো লাগছে। শীতের মধ্যে এখানে এসে সে কষ্টটা লাগব হয়েছে।

বন্ধুদের নিয়ে ফ্লাইওভারে ঘুরতে এসেছে কামাল, মিলন, শাফায়াত, সজল ও জাফর। শহরের একটি কলেজে লেখাপড়া করে তারা। যতক্ষণ চোখে পড়লো সেলফি তুলতেই ব্যস্ত তারা। সজল জানায়, উদ্বোধনের পর থেকে বেশ কয়েকবার বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে এসেছে তারা। সে আরো বলে ফেনীতে সব চেয়ে সুন্দর স্থান এটা।

মাদরাসা পড়–য়া ছেলের আবদার রাখে রাতে মহিপাল ফ্লাইওভারে বোনকে নিয়ে আসেন জাহান আরা নামে পঞ্চাশোর্ধ এক নারী। কেমন লাগছে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, অনেক সুন্দর। তবে ছেলেরা যেভাবে হৈ-হুল্লোড় করছে যে কোন সময় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।

রাতে আরো কথা হয় ঘুরতে আসা, নাজিম, কায়সার, আরমানের সাথে। তারাও বেজায় খুশি ফেনীতে এমন এটি বিনোদনের স্থান পেয়ে। ফ্লাইওভারের বেশ খানিকটা জায়গা জুড়ে মোটর সাইকেল পার্কিং করে রাখায় রাস্তা সংকুচিত হয়ে পড়ে। এতে যে কোন সময় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে শুরু হয় দেশের প্রথম ৬ লেইনের উড়াল সেতুর কাজ প্রায় ১’শ ৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে উড়াল সেতুর প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৯ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটেলিয়ানকে। মোট ১ হাজার ৮’শ ২০ মিটার দৈর্ঘ্য ও প্রায় ৪৫ মিটার প্রস্থের প্রকল্পের মধ্যে ২’শ ৯০ মিটার চালুর স্তরের সড়কসহ মূল সেতুটি হল ৬’শ ৬০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১০ মিটার সার্ভিস সড়কসহ ৩৪ দশমিক ৬২ মিটার প্রস্থ। আর নির্ধারিত মেয়াদের ৬ মাস আগেই কাজ শেষ হয়।

আবদুল্লাহ আল-মামুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.