বিএনপি আন্দোলনও করবে নির্বাচনেও অংশনেবে -ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ

কোম্পানীগঞ্জ: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বিএনপি আন্দোলনও করে যাবে,নির্বাচনেও অংশ গ্রহণ করবে। সরকারকে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের মত আর কোন নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।

মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য দেশের মানুষ যখন মাঠে নেমে যাবে তখন রাজনৈতিক চিত্র বদলে যাবে। সরকার বিএনপিকে সভা-সমাবেশ করতে দেয় না। বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য একবার মাঠে নামলে তখন দেখবেন কার শক্তি কতটুকু আছে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসুক, নির্বাচনের সময় সেটা প্রমানিত হবে। আমরা নির্বাচন এবং আন্দোলন, এ দুটার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা জানি এ সরকার কোন সমোঝতায় আসতে চাইবেনা। তবুও আমরা চেষ্টা করবো, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনটা যেন একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধিনের একটি সুষ্ঠ নির্বাচন হয়। এটা আমাদের কোন স্পেশাল দাবী না, সকল মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ের দাবি। এ দাবীর সাথে কোন দলমতের সম্পর্ক নেই। আমি আমার ভোটের অধিকার ফিরে পেতে চাই। আমি ভোট কেন্দ্রে গিয়ে আমার মুক্ত মনে পছন্দ মত প্রার্থীকে যেন ভোট দিতে পারি।

তিনি গতকাল শুক্রবার দুপুরে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামে তাঁর নিজ বাড়িতে প্রয়াত ছেলে আমান মওদুদের স্মৃতি রক্ষার্থে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উদ্বোধন কালে এসব কথা বলেন।

মওদুদ আহমেদ আরো বলেন, দেশ এখন চরম সংকটের মধ্যে রয়েছে। দেশে এখন গণতন্ত্রের সংকট। গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য নির্বাচন কমিশনসহ অন্যান্য সংগঠনগুলোকে সরকার শক্তিশালি না করে এগুলোকে অনেক দূর্বল করে ফেলেছে। এ সংকট উত্তোরণের জন্য আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশের সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোকে এখনই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশে আবার গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য কঠোর আন্দোলন করতে হবে। এ আন্দোলন কোন বিশেষ রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় নিয়ে আসার জন্য নয়। এ আন্দোলন হলো দেশকে রক্ষা করার জন্য। দেশে যদি গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে না পারি, রাষ্ট্র বলে যে আমাদের গৌরব সে গৌরব আর আমাদের মাঝে থাকবে না। সে কারণে গণতন্ত্র উত্তোরন অপরিহার্য্য হয়ে ওঠেছে। এটা বাংলাদেশের মানুষের জন্য, আমাদের নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য, দেশের ভবিষ্যতের জন্য, সকল নাগরিকের ভবিষ্যতের জন্য। আজ দেশের কোন নাগরিক নিরাপদ নয়। যে কোন সময়, যে কোন লোক গুম হয়ে যেতে পারে। এটার কোন নিশ্চয়তা নেয়। এভাবে প্রতিদিনই গুম-খুন, অপহরণ এবং বিচার বহির্ভুত হত্যাকান্ড হচ্ছে। যারা নিখোঁজ হয়ে যান, কেউ কেউ আবার অনেক দিনপর ফিরে আসেন। গুম হওয়া অনেকে আছেন তাদেরকে আর কেন দিন দেখবোনা বলে মনে হয়। আজ পর্যন্ত গুম হওয়া অনেকের কোন খবর নেই। দেশে একটা অস্থির অবস্থা বিরাজ করছে। এ অবস্থার অবসান ঘটাতে হবে এবং এটা করতে গেলে আগামী নির্বাচন যাতে একটি প্রতিনিধিত্বশীল নির্বাচনের মাধ্যেমে একটা কার্যকর সংসদ আমরা জাতিকে উপহার দিতে পারি। আমরা ভোটের অধিকার ফিরে আনতে চাই। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চাই। দেশে আইনের শাসন ফিরিয়ে আনতে চাই।
সংবাদপত্রের মাধ্যমের উপর যে রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে এটা আমরা চাই না। সংবাদপত্রের পূর্ণ স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে চাই। বিচার বিভাগের যে স্বাধীনতা এখন সেটা ম্লান হয়ে গেছে। দেশে বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে আমরা ফিরিয়ে আনতে চাই। যাতে করে আমরা আবার নতুন যাত্রা শুরু করতে পারি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠ অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে হবে।

আমার নির্বাচনি এলাকায় আসলেও আমি কোন এলাকায় যেতে পারিনা। কোন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে যেতে পারিনা। আমি একটি ঘরোয়া বৈঠকও করতে পারিনা। আমি আমার বাড়ীতে বৈঠকের আয়োজন করতে হয়। প্রশাসন থেকে বলেছে আমাকে কোন রকম কোন অনুমতি দেবে না। আমরা অনুমতির জন্য চেষ্টা করেছি, কিন্তু প্রশাসন আমাদেরকে কোন অনুমতি দেয়না। তবে না দেয়ার একটি অন্যতম কারণ তারা বলেছে উপর থেকে নির্দেশ আছে এখানে বিএনপিকে রাস্তায় নামতে দেবে না। এটা কোন ধরনের গণতন্ত্র, কোন ধরনের রাজনীতি। তবে সময় আসলে বিএনপি রাস্তায় নামবে। তখন বিএনপিকে আর কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী আবদুল হাই সেলিম, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম শিকদার, বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান রিপন, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, পৌর যুবদলের সভাপতি শওকত হোসেন ছগির, উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জাহেদুর রহমান রাজন, পৌরসভা ছাত্রদলের সভাপতি ওবায়দল হক রাফেল, সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল হক আরিফ প্রমূখ।

প্রতিবেদক/নোয়াখালীনিউজ/এসইউ

Leave a Reply

Your email address will not be published.