ইউপি মেম্বারের নির্যাতনে বাকরুদ্ধ চেয়ারম্যানের ভাতিজা

কোম্পানীগঞ্জ: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাকের জাতিজা মোঃ নিশাতকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে নির্যাতন করেছে সন্ত্রাসীরা। গুরুতর আহত ও বাকহীন অবস্থায় ওই যুবক নোয়াখালীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। এ ঘটনার জন্য তার আত্মীয়-স্বজন ওই ইউনিয়নের মেম্বার মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন। শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। আহত নিশাত চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাকের ভাই আবদুল আজিজ খোকনের ছেলে।

নিশাতের নিকট আত্মীয় শাহপরান জানান, শুক্রবার রাতে নিশাত তার চাচা চেয়ারম্যানের এক বন্ধুর মৎস্য প্রজেক্টে কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে দুটি মোটর সাইকেলে আসা অস্ত্রধারী ৫-৬ সন্ত্রাসী তার পথরোধ করে তাকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যায়।
শনিবার ভোরে ফজরের নামাজের অজু করতে বের হওয়া স্থানীয় আয়েশা খাতুন ও তার ছেলে লিটন আহত নিশাতের গোংরানির শব্দ শুনতে পান। বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যদের জানালে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানকার চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য নিশাতকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। বর্তমানে নিশাত নোয়াখালীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শাহপরান আরও বলেন, নিশাত কথা বলতে পারছে না। তবে কারা এবং কীভাবে তাকে তুলে নিয়ে গেছে তা সে ইশারায় বোঝাতে সক্ষম হয়েছে। চরএলাহী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) মোজাম্মেল হোসেন ওরফে বাহিনী মোজাম্মেলের সন্ত্রাসীরা তাকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করেছে। তারা তাকে মৃত ভেবে বাড়ির সামনে এনে ফেলে রেখে যায়।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম বলেন, আহত নিশাতকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তার পুরো শরীর থেঁতলে দেওয়া হয়েছে। তার মুখের ভেতরে ও কণ্ঠনালির দিকে একাধিক ক্ষতচিহ্ন থাকায় তিনি কথা বলতে পারছেন না।

স্থানীয়রা জানান, ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেই নির্যাতিত হতে হয়। মোজাম্মেল এখন জনগণের কাছে একটা আতঙ্কের নাম। কোম্পানীগঞ্জ থানার একটি সূত্র জানিয়েছে, মোজাম্মেলের নামে থানা ও আদালতে প্রায় ১৯টি মামলা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, ঘরে অগ্নিসংযোগ, চাঁদাবাজি, জায়গা দখলের মামলা বেশি। একাধিকবার জেলেও গেছেন। কিন্তু বীরদর্পেই এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

এদিকে অভিযুক্ত ৮নং ওয়ার্ড মেম্বার মোজাম্মেল হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করেন বলেন, তার সন্ত্রাসী বাহিনী নেই। তাছাড়া তিনি কেন চেয়ারম্যানের ভাতিজাকে মারধর করবেন বলে উল্টো প্রশ্ন করেন।

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, এমন ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবহিত নন। তবে খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।

প্রতিনিধি/নোয়াখালীনিউজ/এসইউ

Leave a Reply

Your email address will not be published.