গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট ও ঝর্ণা ধারা চৌধুরী

222১৯৪৬ সালের শেষ দিকে নোয়াখালীতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়লে সেখানে ছুটে আসেন ভারতের জনক মহাত্মা গান্ধী। সেখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রায় চার মাস খালি পায়ে গ্রামের পর গ্রামে হেটে অহিংসার বাণী প্রচার করেন। তার সেই স্মৃতি নিয়ে সোনাইমুড়ীতে গড়ে ওঠে গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট।

মাত্র নয়োর্দ্ধ বয়সের শিশু ঝর্ণা ধারা চৌধুরী (বর্তমানে সচিব, গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট) লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলাধীন কালুপুর গ্রামে তাঁর জন্মস্থান ভিটেবাড়ীতে ১৯৪৬ সনের ১৩ই অক্টোবর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময়ে বিবাহিত নারীদের কপালের সিদুঁর পা দিয়ে মুছে ফেলা, হাতের শাখা ভেঙ্গে ফেলা, অগ্নি সংযোগ, হত্যা ও লুটতরাজের ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছিলেন।

এছাড়া লক্ষ্মীপূজার দিন করপাড়া চৌধুরী বাড়ীর ২৬জন নিরীহ মানুষকে আগুনে নিক্ষেপ করে পুড়িয়ে মারা হয়েছে বলে তিনি অবগত আছেন। কিন্তু এসব নেতিবাচক ঘটনা শ্রীমতি ঝর্ণা ধারা চৌধুরীকে অসাম্প্রদায়িক চেতনা থেকে দূরে সরাতে পারেনি বরং আজীবন জাতি-ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণী-পেশা-ভাষা-আঞ্চলিক-ভৌগলিক সীমারেখা-নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মানবকল্যানে নিরলসভাবে সমাজসেবামূলক কাজ করে যাচ্ছেন।

গান্ধীজির আদর্শে অনুসারী হয়ে সমাজসেবামূলক কাজে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে শ্রীমতি ঝর্ণা ধারা চৌধুরীকে ভারত সরকার কর্তৃক ২০১৩ সালে ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার “পদ্মশ্রী” প্রদান করা হয়েছে। নানা বাধা বিপত্তি এবং ঝুঁকি উপেক্ষা করে বাংলাদেশে নারী উন্নয়ন তথা নারী শিক্ষায় আজীবন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন শ্রীমতি ঝর্ণা ধারা চৌধুরী ।

সংগ্রহ-নোয়াখালীনিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published.