উত্তর কোরিয়ার শাসক আমেরিকাসহ তার মিত্রদের ঘুম হারাম করেছে

kim-jong-unআনোয়ারুল হক আনোয়ার: বিশে^র সর্বকনিষ্ট এবং প্রভাবশালী রাষ্ট্রনায়ক কিম জং উন কারো দৃষ্টিতে হিরো আবার কারো কাছে বিতর্কিত একঘুঁয়ে কিংবা স্বৈরশাসক। উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা তিনি। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের জন্য মহা হুমকি সৃষ্টিকারী এই যুবক অনেকের ঘুম হারাম করে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক অবরোধ, বহিঃবিশ্ব থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন এবং অর্থনৈতিক সংকটের মাঝে অবস্থান করেও কিম জং উন শত্রুদের উদ্দেশ্যে একটি বার্তা পৌছে দিয়েছে। আর সেটা হলো দেশের জনগন ঐক্যবদ্ব থাকলে যে কোন শক্তি হার মানবে। বাস্তবে সেটাই দেখাচ্ছে এই সাহসী যুবক। উত্তর কোরিয়ার চর্তূপাশের্^ শক্তিশালী প্রতিপক্ষের অবস্থান। কিন্তু এতসত্বেও কাউকে পরোয়া করছে না এই নেতা। একের পর এক সামরিক শক্তি বৃদ্বি করে চলছে। প্রয়োজনে প্রধান শত্রু আমেরিকার ভূখন্ডে হামলা চালানোর শক্তি সামর্থ জোগাড় করে ফেলেছে। আর তাতেই তেলে বেগুনে উত্তপ্ত আমেরিকা এবং তার মিত্র জাপান ও দক্ষিন কোরিয়া।

কিম জং উন এর জন্ম ১৯৮৪ সালের ৮ জানুয়ারী। প্রয়াত শাসক কিম জং ইলের চতুর্থ সন্তান তিনি। পিতা কিম জং ইলের মৃত্যুর পর ২০১১ সালের ২৮ ডিসেম্বর উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তার নাম ঘোষনা করা হয়। কিম জং উন একাধারে উত্তর কোরিয়া ওয়াকার্স পার্টির প্রথম সম্পাদক, কেন্দ্রীয় সামরিক সংস্থার সভাপতি, জাতীয় প্রতিরক্ষা সংস্থার সভাপতি, কোরিয়ান পিপলস আর্মির সর্বোচ্চ অধিনায়ক এবং কোরিয়া ওয়াকার্স পার্টির সভাপতিমন্ডলীয় নিয়ন্ত্রন কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। ৩১ বছর বয়সী এই রাষ্ট্রনায়কের দুইটি ডিগ্রী রয়েছে। একটি হচ্ছে, তিনি কিম ইল সাং বিশ^বিদ্যালয় থেকে যথাক্রমে পদার্থ বিজ্ঞানে এবং সেনা কর্মকর্তা হিসেবে ডিগ্রী লাভ করেন।

১ লাখ ২০ হাজার ৫৩৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশ উত্তর কোরিয়া ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। সাংবিধানিকভাবে বহুদলীয় গনতান্ত্রিক ব্যবস্থার কথা বলা হলেও উত্তর কোরিয়া এক দলীয় শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। কিম জং উনের নেতুত্বে কোরিয়ার ওয়াকার্স পার্টি হচ্ছে দেশটির একমাত্র শাসক রাজনৈতিক দল। বার্ষিক মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৩ শত ডলার। মূলত: কৃষি, মৎস, পর্যটন এবং কিছু খনিজ সম্পদের উপর নির্ভর করে দেশটির অর্থনৈতিক চাকা সচল রয়েছে। প্রতিরক্ষা শিল্পে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের বিষয়টি পশ্চিমাদের মাঝে গভীর সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। যে দেশের বার্ষিক মাথাপিছু আয় মাত্র ১৩ শত ডলার। সে দেশ কিভাবে পারমানবিক ও ক্ষেপনাস্ত্র কর্মসূচীর উন্নয়ন ঘটাচ্ছে ?

উত্তর কোরিয়ার সামরিক শক্তি ঃ উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ১৩ লাখ ৫০ হাজার। এর মধ্যে সেনাবাহিনী ১১ লাখ, নৌবাহিনী ৮০ হাজার এবং বিমান বাহিনী সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার। যুদ্ব জাহাজ ৪৩০,উভচর যান ২৬০, সাবমেরিন ৭৫, যুদ্ব বিমান ৮২০ টি, পরিদর্শন বিমান ৩০, পরিবহন বিমান ৩৩০, হেলিকপ্টার ৩০০, ট্যাংক ৪৫০০ শত, আর্মড ভেহিকেল ২৫০০ শত, ফিল্ডগান ৯ হাজার, মাল্টি রকেট লাঞ্চার ৬ হাজার, গ্রাউন্ড টু গ্রাউন্ড গাইডেড ইউপন (উৎক্ষেপিত) ১৫০। অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল না হলেও সামরিক শক্তিতে অনেকের ভয়ের কারন হিসেবে দাঁড়িয়েছে উত্তর কোরিয়া। সামরিক সামর্থের যে পরিসংখ্যান দেয়া হল সেটা পশ্চিমা তথ্য উপাত্ত থেকে সংগৃহীত। এছাড়া পরমানু এবং ক্ষেপনাস্ত্র অস্ত্র মজুত করছে দেশটি। চলতি বছর আন্ত:মহাদেশীয় ক্ষেপনাস্ত্র তৈরীর মাধ্যমে খোদ মার্কিন ভূখন্ডে আঘাত হানার হুমকি দিচ্ছে। ফলে মার্কিনীদের উদ্বেগ বৃদ্বি পেয়েছে। উত্তর কোরিয়া ইতিপূর্বে হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষাও সম্পন্ন করেছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, উত্তর কোরীয় শাসকের খুঁটির জোর কোথায় ? মূলত ঃ উত্তর কোরিয়া সরকার রিমোর্টের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। উক্ত রিমোর্ট’টি নিয়ন্ত্রন করছে চীন ও রাশিয়া। ২০/২৫ বছর পূর্বে চীন-রাশিয়ার সম্পর্ক বর্তমান সময়ের চাইতে সূদৃঢ় না হলেও উভয় দেশ উত্তর কোরিয়াকে সর্বক্ষেত্রে সহযোগীতা করে আসছে। বর্তমানে সাহায্যের পরিমাণ আরো কয়েকগুন বৃদ্বি করা হয়েছে। চীন-রাশিয়ার সাথে যখন আমেরিকাসহ পশ্চিমাদের সম্পর্ক তলানীতে এসে যায় তখন উত্তর কোরিয়ার গুরুত্বও বৃদ্বি পায়। দক্ষিন কোরিয়া ও জাপান হচ্ছে পশ্চিমাদের বিস্বস্থ বন্ধু। অপরদিকে জাপানের সাথে চীন-রাশিয়ার দ্বন্ধ চলছে দীর্ঘদিন যাবত। জাপানের হোক্কাইডুসহ একাধিক দ্বীপের মালিকানা নিয়ে রাশিয়া-জাপান বিরোধ নতুন কিছু নয়। আবার চীন-রাশিয়াকে ঠেকাতে জাপান ও দক্ষিন কোরিয়ায় আমেরিকার কয়েকটি শক্তিশালী সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এছাড়া দক্ষিন চীন সাগরের মালিকানা নিয়ে চীনের সাথে রয়েছে জাপানের বিরোধ। ফলে আমেরিকা, জাপান ও দক্ষিন কোরিয়াকে সদা সর্বদা ব্যস্ত রাখতে উত্তর কোরিয়াকে সমর্থন দিচ্ছে চীন-রাশিয়া।

পশ্চিমারা বিশে^ ৪টি দেশের উপর মাত্রাতিরিক্ত গোয়েন্দা নজরদারি চালাচ্ছে। দেশগুলো হচ্ছে, উত্তর কোরিয়া, ইরান, পাকিস্তান ও সিরিয়া। এরমধ্যে উত্তর কোরিয়া ও পাকিস্তান পরমানু এবং ক্ষেপনাস্ত্র সম্পন্ন দেশ। অপরদিকে ইরান ইস্যুতে ব্যর্থ হয়ে এখন সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের সহযোগীতা করছে। পশ্চিমা উদ্যোগে দুই কোরিয়ার একত্রীকরনে বেশ কয়েকবার উদ্যাগ নেয়া হয়। দুই পক্ষ একাধিকবার আলোচনার টেবিলে বসে শেষতক কোন সিদ্বান্তে উপনীত হতে পারেনি। দুই কোরিয়া একত্রীকরন করা গেলে মার্কিনীসহ বন্ধু দেশগুলোর উদ্বেগ হ্রাস পাবে। কিন্তু উত্তর কোরিয়া পূণঃএকত্রীকরনে ঘোর বিরোধী চীন ও রাশিয়া নেপথ্যে থেকে যাবতীয় কলকাঠি নাড়ছে।

উত্তর কোরীয় নেতাকে নিয়ে পশ্চিমারা বেশ সন্দিহান। কখন কি করে বসে তারও কোন গ্যারান্টি নাই। জাতিসংঘের একের পর এক হুশিয়ারী উপেক্ষা করে পরমানু ও ক্ষেপনাস্ত্র বিভিন্ন সমরাস্ত্রের পরীক্ষা সম্পন্ন করছে সমানগতিতে। প্রয়োজনে আমেরিকায় পারমানবিক হামলার হুমকি প্রদানও করছে। ফলে উত্তর কোরিয়া নিয়ে আমেরিকা, জাপান ও দক্ষিন কোরিয়া উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। আবার উত্তর কোরিয়ায় হামলা চালানোর দূঃসাহস করছেনা মার্কিন ও মিত্ররা। তাহলে শুরু হবে পরমানু হামলা। সুতরাং কোন অবস্থাতেই উত্তর কোরীয় তরুন শাসককে চটাতে চাইছেনা মার্কিন ও মিত্ররা।

লেখক: সিনিয়র রিপোর্টার ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক

One Response to "উত্তর কোরিয়ার শাসক আমেরিকাসহ তার মিত্রদের ঘুম হারাম করেছে"

  1. Josepharife   July 22, 2017 at 1:43 pm

    cialis sale london
    cheap cialis
    cheap cialis sydney
    cheap cialis online
    can you buy cialis online in canada

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published.