সানজিদার স্বপ্ন আইনজীবি হওয়ার

সেনবাগ: জন্মের মাত্র ২৬দিন বয়সে আগুনে পুড়ে দু’টি হাত’সহ শরীরের কিছু অংশ পুড়ে যায়। শরীরের এ ক্ষত নিয়ে দিনে দিনে বড় হতে লাগলো সেই। মাত্র ৪ বছর বয়সে তাকে একটি কিন্ডার গার্ডেন এ ভর্তি করিয়ে দেয় তার মা শাহীন আক্তার। বর্তমানে শিক্ষক ও সহপাঠিদের সহযোগিতায় প্রাথমিক শেষ করে এখন জিডিসি পরীক্ষার্থী সে। নিজের এই সংগ্রামী জীবনের সফল হবে এই আশা ব্যক্ত করে নিজের ইচ্ছের কথা জানালেন তিনি।

রোববার সকালে বীজবাগ এন কে উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা শুরুর আগে কথা হচ্ছিল নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নে সৌদি প্রবাসী মহিন উদ্দিনের মেয়ে ও সেনবাগের কতুবেরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী সানজিদ আক্তারের সাথে।

সানজিদা আক্তার এ প্রতিবেদককে জানান, মাত্র ২৬দিন বয়সে আগুনে হাত পুড়ে গেলেও তার মা-বাবা, শিক্ষক ও সহপাঠিদের সহযোগিতায় আজ সে এই পর্যন্ত এসেছে। সে সবার সহযোগিতার নিয়ে তার আগামী দিনগুলো ভালো পড়া লেখার মাধ্যমে শেষ করতে চায়। তার ইচ্ছে পড়া লেখা শেষ করে ভালো একজন আইনজীবি হবেন।

সানজিদার ‘মা’ শাহীন আক্তার জানান, ২০০২ সালের জুলাই মাসে তিনি (মা) ২৬দিন বয়সি সানজিদাকে রেখে ঘরের বাহিরে গিয়েছিলেন। এসময় তার থেকে একটু দূরে বিছানর ওপর একটি বাতি জ্বালিয়ে রেখে যান। এরকিছুক্ষন পর বাতাসে বাতিটি পড়ে গিয়ে বিছানায় আগুন ধরে গেলে দু’টি হাতসহ সানজিদার শরীরের একঅংশ পুড়ে যায়।

পরে তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের আর্থিক অবস্থা খারাপ থাকায় তখন উন্নত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়নি সানজিদাকে। এরপর তিনি সানজিদাকে নিয়ে সনাজিদার নানার বাড়ীতে সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের দেবিশিংপুর গ্রামের চলে আসেন। সানজিদার বয়স যখন ৪ তখন তাকে স্থানীয় কুতুবেরহাট মডেল একাডেমিতে ভর্তি করিয়ে দেন তিনি। দুই বোন ও এক ভাই’এর মধ্যে সানজিদা আক্তার সবার বড়।

তিনি তার মেয়ে সানজিদার সুন্দর ভবিষৎ ও ভালো পড়া-লেখার জন্য সবার দোয়া কামনা করেছেন।

জাহাঙ্গীর পাটোয়ারী/এমআরআর/৭ নভেম্বর

Leave a Reply

Your email address will not be published.