রামগঞ্জে চিকিৎসার অভাবে সন্তান ও মায়ের মৃত্যু

রামগঞ্জ: লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে উপজেলার সোনাপুর গ্রামের উত্তর সোনাপুর মুন্সী বাড়ীর নুর আলমের মেয়ে তিন সন্তানের জননী শামসুন্নাহার (৩০) ও তার গর্ভজাত সন্তান অসুস্থ হয়ে না স্বামীর নির্যাতনে মারা গেছে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বাড়ীর লোকজন।

অপরদিকে শামসুন্নাহারের ভাই জানিয়েছেন, টাকা না থাকায় বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে তার বোন। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে বেশ কিছু লোক উঠেপড়ে লেগেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার সোনাপুর গ্রামের উত্তর সোনাপুর মুন্সী বাড়ীর নুর আলমের কন্যা শামসুন্নাহারকে পারিবারিকভাবে বিয়ে দেয়া হয় একই উপজেলার ৩নং ভাদুর ইউনিয়নের কেথুড়ী গ্রামের আন্তিরবাড়ীর নুর ইসলামের ছেলে মোঃ সুমনের সাথে। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে বাবা নুর আলম দফায় দফায় জামাই সুমনকে নগদ টাকাসহ ঘরের আসবাবপত্র প্রদান করলেও স্বামী সুমন শামসুন্নাহারকে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন অব্যাহত রাখতো। এমনকি মা-বাবার সাথে শামসুন্নাহারের সব যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় তার স্বামী। বর্তমানে শামসুন্নাহার এর জয় (৮), শামিম (৬) ও সুমাইয়া (২) নামের তাদের তিনটি সন্তান রয়েছে।

এদিকে গত তিনমাস পূর্বে স্ত্রী শামসুন্নাহার ও সন্তানকে নিয়ে সুমন ঢাকায় চলে যায়। সেখানে গিয়ে বাড়ীর সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় সে।

প্রায় তিন মাস পর গত মঙ্গলবার রাতে শামসুন্নাহারের স্বামী ৭ মাসের গর্ভের বাচ্চাসহ অসুস্থ স্ত্রীকে শশুর বাড়ীতে রেখে ঢাকায় চলে যায়। পরদিন বুধবার শামসুন্নাহার অসুস্থ হয়ে গেলে তার ভাই ফিরোজ ও মা সাফিয়া বেগম তাকে সিএনজিযোগে রামগঞ্জে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। হাসপাতালের কর্ত্যব্যরত চিকিৎক শামসুন্নাহারকে অন্য কোথাও উন্নত চিকিৎসা দেয়ার কথা জানান। পরে তারা শামসুন্নাহারকে বাড়ী নিয়ে আসার পথিমধ্যে একটি মৃত ছেলে সন্তান জন্ম দেয়। তারপরও ভাই ফিরোজ বোন শামসুন্নাহারকে হসপিটালে না নিয়ে পূনরায় বাড়ীতে নিয়ে আসে। বুধবার বিকালে আবারো শামসুন্নাহার প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে গেলে তাকে দ্রুত লক্ষ্মীপুর সদর হসপিটাল নিয়ে গেলে আবাসিক চিকিৎসক শামসুন্নাহারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী হসপিটালে নেয়ার জন্য তাগিদ দিলে ভাই ফিরোজ শামসুন্নাহারকে নোয়াখালীতে না নিয়ে আবারো বাড়ীর পথে রওয়ানা দিলে আজ বৃহস্পতিবার রামগঞ্জ শিশুপার্ক এলাকায় সকাল সাড়ে ১১টায় শামসুন্নাহার মারা যান।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাটি শুনে উত্তর সোনাপুর মুন্সী বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায় শত শত মানুষের ভিড়। এসময় মৃত শামসুন্নাহারের ভাই মোঃ ফিরোজ সাংবাদিকদের জানান, তার বোন জন্ডিস রোগে মারা গেছে। তাকে কেউ মারধর করেনি তবে আমার বোনের স্বামী ছিলো বখাটে। দীর্ঘদিন যাবত আমাদের সাথে বোনকে যোগাযোগ করতে দেয়নি সে। এক প্রশ্নের জবাবে সে জানায়, টাকা না থাকার কারনে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কোথাও নিতে পারি নি।

এব্যপারে মৃত শামসুন্নাহারের স্বামী মোঃ সুমন জানান, আমি আমার স্ত্রীর মৃত্যু সংবাদ পেয়েছি সকাল সাড়ে ৯টায়। স্যার, আমি ঢাকা থেকে বাড়ী আসতেছি আপনারা থাকেন।

রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ তোতা মিয়া জানান, আমাদের কাছে এ ব্যাপারে মেয়ের আত্মীয়স্বজনের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। যদি অভিযোগ পাই তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা প্রতিনিধি/এমআরআর/৮ ডিসেম্বর

Leave a Reply

Your email address will not be published.