ঝিমিয়ে পড়েছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদল

কোম্পানীগঞ্জ: বয়স্ক, বিবাহিত ও অ-ছাত্রদের নিয়ে চলছে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা, পৌরসভা ও কলেজ ছাত্রদলের কার্যক্রম। যার ফলে ঝিমিয়ে পড়েছে সংগঠনটির কার্যক্রম। আবার অনেকেই নিজ থেকে ছাত্রদল থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ অবস্থায় ছাত্রসহ মূল দলের অনেক নেতাকর্মী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

জানা গেছে, উপজেলার মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির অছাত্রদের নেতৃত্বেই চলছে বিএনপির এই ছাত্র সংগঠনটি। প্রায় ৬বছর পূর্বে উপজেলা, পৌরসভা ও কলেজ ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়েছে। অনেক বছর আগেই নেতাদের ছাত্রত্ব শেষ হয়েগেছে। এরমধ্যে অনেকে বিবাহ করে একাধিক সন্তানের বাবা হলেও এখনও ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে রয়েগেছেন।

তবে গতানুগতিক কর্মসূচী ছাড়া সংগঠনটির নেতাদের দেখা মেলে না। অনেকে আবার আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন। নতুন মেধাবীরা ছাত্রদলের হাল ধরার জন্য অপেক্ষা করতে করতে ছাত্রত্ব চলে যাচ্ছে। অনেকে হতাশ হয়ে সক্রিয় রাজনীতি ছেড়ে দিচ্ছেন। উপজেলা, পৌরসভা ও কলেজ ছাত্রদল এখনও সাধারণ কর্মীর কারনে টিকে রয়েছে। তাদেরকে বিএনপির ছাত্র সংগঠনটিতে বিভিন্ন কর্মসূচীতে ভূমিকা রাখতে দেখা যাচ্ছে।

সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলা ছাত্রদল তিনভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুল কবির ফয়সল এক পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জাহেদুর রহমান রাজন অপরপক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কিন্তু ছাত্রদলের কার্যক্রম নিয়ে নেতাদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ রয়েছে। মূলত দলের কর্মসূচিতে কর্মীরাই সক্রিয় ভূমিকা পালন করে থাকেন। তাছাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সমস্যাগুলো ওয়ার্ড পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।

একটি সূত্র জানায়, সর্বশেষ বিএনপির অভিভাবক স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এর বাড়ীতে ২০১১সালে উপজেলা, পৌরসভা ও কলেজ ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়। ৬ বছর যাবত এই কমিটির নেতৃত্বে চলছে ছাত্রদল। গঠনতন্ত্র মোতাবেক কমিটি দুই বছর মেয়াদ। ২০১১সালে গঠিত কমিটি ৮টি ইউনিয়নেও পুরাতন কমিটিই বহাল রয়েছে। ইউনিয়ন কমিটিগুলোতেও বয়স্ক, বিবাহিত ও অছাত্রদের সংখ্যা অসংখ্য। ইউনিয়ন কমিটির কিছু নেতৃবৃন্দ দেশের বাহিরে চলে যাওয়ায় পুরাতনদের রেখে পুনগঠন করা হয়েছে বলেও জানা যায়। যার ফলে অনেক উদীয়মান ছাত্রনেতার এখন দলের প্রতি অনীহা চলে এসেছে।

কমিটিতে নেতৃত্বে থাকা নেতাদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানা গেছে, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুল কবির ফয়সাল ও সাধারণ সম্পাদক জাহেদুর রহমান রাজন রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও বহু আগেই তারা ছাত্রত্ব হারিয়েছেন।  তারা দুইজনেই বিবাহিত এবং একটি করে কন্যা সন্তানের জনক। ফয়সল ও রাজন রাজনীতির পাশাপাশি বসুরহাট বাজারে ব্যবসায় জড়িত। যুগ্ম-সম্পাদক নুর আমিন সুমন চট্টগ্রাম থাকেন, তিনিও বিবাহিত।

বসুরহাট পৌরসভা ছাত্রদলের সভাপতি ওবায়দুল হক রাফেল ও ছালেহ উদ্দিন সুমনের ছাত্রত্ব বহু আগে হারিয়েছে। ছালেহ উদ্দিন সুমন বিবাহিত, তিনি একটি সন্তানের জনক। সিনিয়র সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন বিবাহ করে দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান করছেন।

সরকারি মুজিব কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি শামছুল আলম রিপুলও বিবাহিত। তিনি একটি সন্তানের জনক। তিনি বসুরহাট বাজারে বিভিন্ন ব্যবসার সাথে জড়িত। সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল হক তৌহিদ বসুরহাট পৌরসভা ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। তিনিও বিবাহিত। তিনি একটি সন্তানের জনক। কলেজ যুগ্ম সম্পাদক নাঈমুর রহমান দীর্ঘদিন ফ্রান্সে অবস্থান করছেন। সহ- সাধারণ সম্পাদক রিংকু ওমানে অবস্থান করছেন।

অপরদিকে সরকারি মুজিব কলেজ ছাত্রদলের কমিটিতে যুগ্ম-সম্পাদক পদে আয়তুল মোজাদ্দেন সাইফুলের নাম দেখা গেলেও তিনি বর্তমানে বসুরহাট পৌরসভা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে আছেন। ফরহাদ হোসেন উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য। তিনিও উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে সদস্য পদে আছেন।

এছাড়া উপজেলার ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড শাখা ছাত্রদল নেতাদের অনেকেই অছাত্র, বিবাহিত, বয়স্ক ও ব্যবসায়ী। আবার অনেকে আওয়ামী লীগেও যোগ দিয়েছেন। কেউ কেউ দীর্ঘদিন যাবত প্রবাসে অবস্থান করছেন। আবার কেউ কেউর বয়স ৪০বছরের কোটায়।

উপজেলার স্থানীয় ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী নজরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, একই পদে যদি একজন এত বছর থাকে তাহলে বাকিরা কী করবে। দলকে চাঙ্গা করতে হলে নতুন নেতৃত্ব আনতে হবে। পাশাপাশি অছাত্র ও বয়স্কদের বাদ দিকে হবে। আন্দোলন, সংগ্রামে তরুন ও মেধাবী ছাত্রনেতার প্রয়োজন।

এব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম সিকদার জানান, ছাত্রদল একটি অতিহ্যবাহী সংগঠন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদল ভূমিকা রেখেছে। বর্তমানেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বেগম খালেদা জিয়ার আহ্বানে মরণপর লড়াই করে যাবে। এ দিকগুলো বিবেচনা করে পুরানো কমিটি ভেঙে দিয়ে কিছুদিনের মধ্যে মেধাবী এবং তরুণ নেতৃত্ব নির্বাচিত করা হবে।

বিশেষ প্রতিনিধি/এমআরআর/১০ ডিসেম্বর

Leave a Reply

Your email address will not be published.