নোয়াখালীতে গৃহবধুর লাশ উদ্ধার

আবদুল মোতালেব ও শিল্পী আক্তার
আবদুল মোতালেব ও শিল্পী আক্তার

সদর: নোয়াখালীর সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নে আজ এক গৃহ বধুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে সদর থানা পুলিশ।

জানা যায়, দীর্ঘ ৪ বছর পূর্বে অশ্বদিয়ার ধুমচর গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে আবদুল মোতালেব (৩০) এর সহিত কবিরহাট উপজেলার ৩নং ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের নলুয়া গ্রামের ইউছুফ আলীর মেয়ে শিল্পী আক্তার (২৩) এর সাথে বিয়ে হয় তাদের ঘরে দুই বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে শিল্পীর স্বামী ও শশুর বাড়ীর লোকজন যৌতুকের দায়ে বিভিন্ন প্রকারের শারীরিক অত্যাচার করতে থাকে এবং এ নিয়ে কয়েকবার গ্রাম্য শালিসও হয়। ইতি মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে স্বামীর বাড়ীর অত্যাচার সহ্য না করতে পেরে বাবার বাড়ীতে থাকেন, গত ২০ রমজান আবার গ্রামের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে স্বামীর বাড়ীতে যায় শিল্পী, কে জানে তাকে শেষ বারের মত শশুর বাড়ী যেতে হচ্ছে। কাল হয়ে দাড়ায় তার ইচ্ছার বাহিরে তাকে তার বাবা মা গ্রাম্য শালিসির মধ্য দিয়ে জোর করে স্বামীর বাড়ী পাঠানো। মেয়ের বাবা ইউছুফ আলী বলেন, আমার মেয়ে তার শশুর বাড়ী আসতে চায়নি আমার বড় ছেলে রাগতা দিয়ে তাকে গত ৮ দিন আগে জামায়ের বাড়ী পাঠান। এবং আমি ২রা জুলাই রাত সেহরী খাওয়ার জন্য জাগ্রত হলে জামাইয়ের ফোনে কল দিয়ে নাতি ও মেয়ের খবর জানতে চাইলে তখন আমাকে সে বলেন আপনার নাতি আছে আর আপনাদের মেয়ে ঘুমাচ্ছে আমি বলি তাকে উঠিয়ে দাও কথা বলবো সে বলেন তাকে উঠিয়ে আমি ফোন দিচ্ছি কিন্তু তার পর থেকে যতবার ফোন করি ফোন বন্ধ।

ভোর বেলায় আমার মেজ ছেলেকে তাদের বাড়ী থেকে ফোন করে বলে তোমার বোন মারা গেছে তাকে নিয়ে যাও তখন আমরা ছুটে আসি। তিনি আরো বলেন, রাতের যে কোন সময় আমার মেয়েকে তারা মেরে ঘরের মধ্যে জুলিয়ে রাখে প্রথমিক ভাবে আলামতও পাওয়া যায়। কত নিষ্ঠুর বাবা হলে তার অবুজ বাচ্চাটাকে লাশের পাশে রেখে হাঁস, মুরগি, কবুতর ও গরু নিয়ে পরিবারের লোকজন সবায় পালিয়ে যান। সারাটি রাত বাচ্চাটি তার মায়ের লাশকে ডাকাডাকি করে এবং টানা হেচড়া করতে থাকে কিন্তু মায়ের কোন সাড়া না পেয়ে ঘরের দরজায় বসে রাত কাটায়।
মোঃ আবদুল্যাহ রানা/এসএস/ ০৪ জুলাই

Leave a Reply

Your email address will not be published.