দৌড়ে টেকনাফ থেকে তেতুঁলিয়া, কোম্পানীগঞ্জের ছেলে আরাফাত

কোম্পানীগঞ্জ: ১ম বাংলাদেশী হিসেবে দৌড়ে টেকনাফ টু তেতুঁলিয়া জয়ের রেকর্ড তৈরী করেছে ২৬বছর বয়সী তরুণ আরাফাত। গড়ে প্রতিদিন ৫০কি: মি: দৌড়ে মাত্র ২০দিনে তিনি পাড়ি দিয়েছেন ১০০৪ কি:মি:, পৌছেছেন টেকনাফ থেকে তেতুঁলিয়া। সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ৬মার্চ সোমবার সকাল ১০টা ৪৫মিনিটে আরাফাত পৌছান তেতুঁলিয়ার বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে।

মোহাম্মাদ শামছুজ্জামান আরাফাত, প্রথম ব্যাক্তি হিসেবে দৌড়ে টেকনাফ টু তেতুঁলিয়া মিশনে ‘দ্য গ্রেট বাংলাদেশ রান’ টিমের এ তরুণ ১৫ ফেব্রুয়ারী টেকনাফের নোয়াপাড়া পরিবেশ টাওয়ার থেকে যাত্রা শুরু করে ২০দিন পর ৬ মার্চ তেতুলিয়ার বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে গিয়ে তার জয়যাত্রা শেষ করে। বাংলাবান্ধায় পৌছার পর স্থানীয় লোকজন তাকে উষ্ণ অর্ভ্যথনা জানায়। আরাফাতকে অভিনন্দন জানাতে ছুটে আসে অনেকেই। ১ম কোন বাংলাদেশীর রেকর্ডকে স্মৃতিতে ধরে রাখতে তেতুলিয়ার স্থানীয় স্কুলের শিক্ষার্থীরা শেষের কিছু পথ দৌড়ে যোগ দেয় এ দৌড়বিদের সাথে। এসময় স্থানীয় শত শত লোকজন ও জনপ্রতিনিধি তাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেয় তাকে।

অধম্য আরাফাতের দীর্ঘ এ যাত্রা মোটেও সহজ ছিলনা। লক্ষ্যে পৌছতে তাকে বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থার সম্মূখীন হতে হয়। হাটঁতে ইনজুরি নিয়েও দীর্ঘ পথ পাড়ি দেন এবং নির্মানাধীন রাস্তায় দৌড়ানোটাও ছিল অনেক কষ্টসাধ্য। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাড়ায় যমুনা সেতু পার হওয়া। নিরাপত্তাজনিত কারনে যমুনা সেতুর উপর দিয়ে অতিক্রম করার অনুমতি পাওয়া যায়নি। কিন্তু এমন প্রতিকূলতা কোন ভাবেই আরাফাতকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। সাতঁরে পাড়ি দিয়েছেন তিনি এই খরস্রোতা যমুনা নদী।

‘রান ফর হেল্দি বাংলাদেশ’ এই প্রত্যয় নিয়ে বাংলাদেশে ১ম বারের মত মোহাম্মদ সামসুজ্জামান আরাফাত তার টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া (১০০৪ কিলোমিটার) দৌড়ান। ১৬ কোটি সুস্থ ও সম্বৃদ্ধিশালী মানুষের বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে তার এই উদ্যোগ।

মোহাম্মদ সামশুজ্জামান আরাফাত নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর গ্রামের ৭নং ওয়ার্ডের বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী মোঃ মোশারফ হোসেনের ছেলে। পরিবারের ৬ভাই-বোনের মধ্যে সর্ব কনিষ্ঠ আরাফাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ১৬তম ব্যাচে ছাত্র সদ্য স্নাতকোত্তর শেষ করে বর্তমানে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যংকে চাকরি করছেন। ২০১৫ ও ২০১৬সালে পর পর দু’বার পাড়ি দিয়েছেন টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন ১৬ দশমিক ০১ কি.মি. দূরত্ব। গত ২০১৬সালে ভারতের মেঘালয়ে চেরাপুঞ্জী ম্যারাথনে অংশগ্রহণ করে ৪২কি.মি. ফুল ম্যারাথন সম্পন্ন করেন। আগামীতে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি এবং এভারেষ্টের চূড়া স্পর্শ করতে চান এ স্বপ্নবাজ। টেকসই উন্নয়ন ৩য় লক্ষ্যমাত্রাকে সমর্থন করেই তার এ উদ্যোগ।

দৌড়ে ১ম বাংলাদেশী হিসেবে টেকনাফ থেকে তেতুঁলিয়া জয়ী আরাফাত বলছেন, সুস্থ সবল ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সচেতনতার লক্ষেই এ উদ্যোগ। প্রত্যেকের জন্য সুস্থ থাকা জরুরী। তাই তিনি দেশের ১৬কোটি মানুষকে জানান দিতে চান, প্রতিদিন ১কি:মি: দৌড়ান নিজে সুস্থ থাকুন ও পরিবারকে সুস্থ রাখুন। তার মতে একদিন অলিম্পিকে সোনা জিতে আনবে বাংলাদেশ। নতুন প্রজন্মের কাছে খেলাধূলাকে তুলে ধরতে হবে। যেন খেলাধূলাকে আমরা আরো ভালবাসি।

এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় তার এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগীতা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও উডপেকার।

নিজস্ব প্রতিবেদক/এমআরআর/৭ মার্চ

Leave a Reply

Your email address will not be published.