‘আঁই টিপসই করি ন’- ছড়িয়ে পড়ছে ফেনীর বাইরেও

ফেনী : ‘ভাইয়া, আমনে এট্টু খারান, আমি এল্লা এল্লা চেষ্টা হরি’- এভাবেই স্বত:স্ফূর্ত চেষ্টায় নিজে নিজে স্বাক্ষর করলেন ত্রিশ বছর বয়সী খুলনার আমেনা বেগম। দরিদ্র স্বামীর সাথে গত পাঁচ বছর ধরে ফেনীতে বাস করছেন তিনি। কিন্তু কেউ তাকে লেখাপড়া বা স্বাক্ষর করা শেখাবেন তা ভাবতেও পারেনি। তবে স্বাক্ষর করার গুরুত্বটি তিনি ঠিকই বুঝতে শিখছেন।

আর তাইতো বৃহস্পতিবার দুপুরে ‘আঁই টিপসই করি ন’ (আমি টিপসই করিনি) প্রকল্পের স্বেচ্ছাসেবী কর্মীদল ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নাজির রোড সংলগ্ন রেল লাইনের পাশের এক ঘরের দরজায় দাঁড়ালে ওই মহিলা তাদেরকে একথা বলেন। এতে কর্মীরাও আনন্দিত হয়। আগের দিন তারা ওই মহিলাকে স্বাক্ষর করা দেখিয়ে এসেছিলেন। আর এভাবেই ‘আঁই টিপসই করি ন’ এর স্বাক্ষরতা কার্যক্রম কার্যত ফেনীর বাইরেও আলো ছড়াতে শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবার এ প্রকল্পের উদ্যোক্তা সংগঠন পথের পাঠশালা ও অন্যান্য সংগঠনের ৪০ সদস্য ৫ জন করে ৮টি দলে বিভক্ত হয়ে কাজ শুরু করে। কে নিরক্ষর- ২টি দল এ তথ্য খুঁেজছে, অপর ৬টি দল গতদিন ও আজ স্বাক্ষর করানো ও তার তদারকিতে নেমেছিল। উক্ত ওয়ার্ডের মিজানরোড-রেল গেইটের পাশে-খাজুরিয়া-আদালত পাড়া চষেছে এসব তরুণ-তরুণীরা। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত একটানা চলেছে কাজ। দুপুরের পর তাদের সাথে এসে যোগ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানা। তাকে পেয়ে কর্মীরা যেমন উৎফুল্ল, তেমনি এলাকাবাসীও আনন্দিত হলেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম পাটোয়ারী, ফেনী সাইক্লিস্ট সভাপতি ইমন-উল হক। আয়োজনের মনিটরিংয়ে ছিলেন প্রকল্প সমন্বয়ক সাজ্জাদ হোসেন দীপু, সহ-সমন্বয়ক ফখরুল ইসলাম ফাহাদ ও নুর নবী হাসান। বিভিন্ন বয়সের এলাকাবাসীও উৎসাহভরে এ স্বাক্ষরতা কর্মসূচি দেখছেন।

বিকালে গ্র্যান্ড হক টাওয়ারের পেছনের একটি বাসায় যায় একটি দল। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে এমন এক ছাত্রের নিরক্ষর মা রোকসানা বেগম (৬০) স্বাক্ষর করা শিখতে পেরে খুবই আনন্দিত। পাশ্ববর্তী এলাকার আমেনা বেগম (৫৫) প্লাস্টিকের ছোট লাল রঙের মোড়ায় কাগজ রেখে যতœ করে স্বাক্ষর শিখেছেন। তাকে ঘিরে ছিল লোকজনের ভিড়। কর্মী দলের আবার ছুট সেলিনা পারভিন সড়কে এক কর্মীর সহযোগিতায় স্বাক্ষর করতে গিয়ে সত্তুরোর্ধ্ব ফাতেমা বেগমের হাত কাঁপছিল। পাশে বসে দেখছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানা। কাগজ ধরে মহিলাকে সহযোগিতা করলেন তিনি। এভাবেই উপস্থিত সবাই ভালোবাসার ও মমতার হাত বাড়িয়েছে এ কাজ চালাতে। আর এভাবে ফেনীসহ ফেনীর বাইরেও ছড়িয়ে পড়ছে ‘আঁই টিপসই করি ন’ এর মানবিক অভিযাত্রা।

উল্লেখ্য, আজ ও আগামীকাল উক্ত ১১০ জনকে মনিটরিং করবে ৬টি দল। পাশাপাশি ২টি দল খুঁজবে যারা নিরক্ষর। এ ওয়ার্ডে ৭ দিনের কর্মসূচির আজ চতুর্থ দিন। পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, দরিদ্র শ্রেণির শিশু ও বয়স্ক মানুষের আগ্রহ বেশি এই ‘লেখাপড়া’র প্রথম পাঠ শিখতে। ফেনীকে শতভাগ নিরক্ষর মুক্ত করতে ফেনী পৌরসভার উদ্যোগে গত সোমবার ‘আঁই টিপসই করি ন’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

আবদুল্লাহ আল-মামুন/ নোয়াখালীনিউজ/এসইউ/ ১১ মে

Leave a Reply

Your email address will not be published.