`না নোয়াখালী ছাড়া আমাকে দিয়ে হবে না’

জনাব আবুল নোয়াখালীকে গালি দিতে দিতে নীলক্ষেত দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করিল। ঢুকিবার মুখেই দেখিল সার্জেন্ট জহুরুল হক হল , এফ রহমান হল। আবুল তীব্রস্বরে আর্তনাদ করিয়া উঠিল যখন শুনিল দুজনের জন্মস্থান নোয়াখালী।

এরপর, তিনি যাইবেন শামসুন্নাহার হলে। জনৈক রমণীর সাথে ইটিশ-পিটিশ করিতেছেন তিনি। সেখানে যাইয়া তিনি ব্রেক-আপ করিবার সিদ্ধান্ত নিলেন। কারণ, বেগম শামসুন্নাহারও নোয়াখাইল্ল্যা।

এরপর, তিনি বুকের কষ্ট চাপা দিয়া বাংলা একাডেমির বইমেলায় প্রবেশ করিলেন। বইমেলা থেকে তিনি মুনীর চৌধুরী এবং শহীদুল্লাহ কায়সারের বই কিনিয়া বেঙ্গল বিস্কুট চিবাইতে চিবাইতে সেজান জুস পান করিলেন। মেলা থেকে বের হয়েই এক্স গার্লফ্রেন্ডের সাথে দেখা। এক্স জানাইলো বাংলা একাডেমির বইমেলার জনক চিত্তরঞ্জন সাহা একজন নোয়াখাইল্ল্যা। আর সেই বইমেলা থেকে কেনা বই এর লেখক মুনীর চৌধুরি, শহীদুল্লাহ কায়সারের বাড়িও নোয়াখালী।

দুঃখে তিনি বেঙ্গল বিস্কুট আর সেজান জুস ছুড়ে মারিলেন, কারণ পাশের এক দোকানদার বলিল ‘ও ভাই এগিন নোয়াখাইল্ল্যা প্রোডাক্ট’। রাগে দুঃখে তিনি বিচার নিয়ে রওনা হইলেন স্পিকারের কাছে। পথিমধ্যে জানিতে পারিলেন তিনি নোয়াখাইল্ল্যা।

এইবার রাজনৈতিক সহানুভূতির জন্য যাত্রা করিল আওয়ামী লীগ সেক্রেটারির কাছে। বেচারা আবুল আবারো জানিতে পারিলেন তিনিও ম্যান অফ নোয়াখালী। রাগে ক্ষোভে এরপর সামরিক আশ্রয় পাইতে ক্যান্টনমেন্ট রওনা হইলেন। গেইট পাশ নিতে কারন জানতে চাইলে তিনি খুলিয়া বলিলেন। কারণ শুনে তারা জানাল সেনাপ্রধান ও একজন নোয়াখাইল্ল্যা।

ওহ কি দারুণ কষ্ট। আস্থার জায়গা ঢাকার মেয়র, তাই তিনি বিচার নিয়ে রওনা হইলেন ঢাকা উওরের মেয়রের কাছে। তাও জানিতে পারিলেন তিনিও নোয়াখাইল্ল্যা জিনিস।

সরকারের কাছ থেকে ছ্যাঁকা খেয়ে গেলেন বিরোধী জোটের কাছে। সেখানে আরো ভর্ৎসনার শিকার হইলেন কারণ বিএনপি চেয়ারপারসন ও জামায়াত আমিরের বাড়িও নোয়াখালী। এরপর, তিনি রাগ সামলাতে না পেরে শরীফ মেলামাইনের বাটি আছাড় মেরে জানতে পারলেন ওটাও নোয়াখাইল্ল্যা কারো। নোয়াখাইল্ল্যাদের অত্যাচারে তিনি গেলেন আত্মহত্যা করতে। ঘুমের ওষুধ খেতে যেয়ে দেখেন ওটাও নোয়াখাইল্ল্যা কম্পানির তৈরি।

নোয়াখাইল্ল্যাদের হাত থেকে বাঁচার জন্য তিনি অফিসের হার্ডবোর্ডের পার্টিশনে মাথা ঠুকলেন।

এরপর তার মুখ দিয়ে অজান্তে বের হয়ে আসল, না নোয়াখালী ছাড়া আমাকে দিয়ে হবে না। না পেরে তিনি অবশেষে ফেসবুকে যেয়ে স্টেটাস দিলেন, ‘নোয়াখালী বিভাগ চাই’।
(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

Leave a Reply

Your email address will not be published.