বিলোনিয়া স্থল বন্দরে আমদানি শূণ্য

চলতি অর্থ বছরে রপ্তানী ৪৪ কোটি টাকা
পরশুরাম: ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় বিলোনিয়া স্থল বন্দর চালু হওয়ার প্রায় আট বছরেও পুনাঙ্গ স্থল বন্দর হিসাবে রূপান্তরিত হয়নি। বিভিন্ন জটিলতায় বন্দর দিয়ে চলছে একমুখী বাণিজ্যিক কার্যক্রম। বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের ব্যবসায়ীদের আমদানী রপ্তানী দুই ধরনের বাণিজ্য করার উদ্দেশ্যে বিলোনিয়া স্থল বন্দরের কার্যক্রম চালু হলেও উদ্বোধনের পর থেকে শুধুমাত্র একমুখী বাণিজ্যিক কার্যক্রমই চলছে। এখন শুধু মাত্র রপ্তানী কার্যক্রম চলছে।

জানা যায়, বিপুল উৎসাহ ও আগ্রহে বন্দর কার্যক্রম শুরু করা হলেও অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যাপ্ত কর্মকর্তা কর্মচারী অভাব, গুদাম ঘর না থাকা, মালামাল মাপার যন্ত্র না থাকা, ওয়ার হাউস নির্মান সহ বিভিন্ন সমস্যার কারনে দুই দেশের সিএএন্ড এফ ব্যবসায়ীরা বিলোনিয়া স্থল বন্দর দিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। ২০০৯ সালের ৪ অক্টোবর বিলোনিয়া স্থল বন্দর উদ্বোধন হলেও এখনো অবকাঠামোর দিক থেকে পরিপুর্নতা অর্জন করতে পারেনি এ স্থল বন্দর। আমদানী-রপ্তানিকারকরা অভিযোগ করেন, শুধুমাত্র রপ্তানী কার্যক্রম চলছে, আমদানী করা যাচ্ছেনা তাই তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ব্যাপক পন্য আমদানীর সুযোগ ও চাহিদা থাকলেও ভারতের সরকার ও কাষ্টমস কর্মকতাদের বাধার কারনে আমদানী করা যাচ্ছেনা। দুই দেশের মধ্যে আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম চালানোর জন্য এই বন্দর উদ্বোধন হলেও এখন শুধুমাত্র রপ্তানী কার্যক্রম চলছে। এখন বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হচ্ছে সিমেন্ট, পাথর, খৈইল, রড ও চুন। ভারত থেকে পেয়াজ, রসুন, গরু, কাঠ, মাছের পোণা, বাঁশ সহ বিভিন্ন পন্য আমদানির সুযোগ থাকলেও তা বিভিন্ন কারনে বন্ধ রয়েছে শুধুমাত্র একমুখী রপ্তানি কার্যক্রম চলছে। ইট রপ্তানী চালু থাকলেও ২০১১-১২ অর্থ বছর থেকে সরকারী নির্দেশে তা বন্ধ রয়েছে।

বিলোনিয়া শুল্ক স্থল বন্দরের ষ্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা ফজলুল হক ভূঁইয়া জানান, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে জাতীয় রপ্তানী ৪৪ কোটি ৭৩ লাখ ৪৯ হাজার ৮৩ টাকা এবং ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে জাতীয় রপ্তানী ৪৫ কোটি ৯৯ লাখ ৭১ হাজার ৩শ ৬৬ টাকা। তিনি আরো জানান, শুধু মাত্র ২০১২-১৩ অর্থ বছরে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা : পরিপূর্ণ অবকাঠামোর অভাব ও নানামুখী জটিলতার পরও বিলোনিয়া স্থল বন্দর উদ্বোধনের পর থেকে বিপুল পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে শুধুমাত্র চলতি অর্থ বছরে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। জুলাই মাসে ৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, আগষ্ট মাসে ৪ কোটি ৪ লাখ, সেপ্টেম্বরে ৩ কোটি ৭৩ লাখ, অক্টোবরে ২ কোটি ৫৫ লাখ, নভেম্বরে ৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, ডিসেম্বরে ৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, জানুয়ারীতে ৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, ফেবুয়ারীতে ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা, মার্চ মাসে ৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, এপ্রিল মাসে ৪ কোটি ৩ লাখ টাকা, মে মাসে ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে।

আমদানী-রপ্তানী কারকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিলোনিয়া স্থল বন্দররের এখনো কোন কাষ্টমস অফিস নেই অনেক পুরাতন পরিত্যাক্ত একটি ভবনে মাত্র দুইজন কর্মকর্তা ও ২ জন সিপাহী দিয়ে বিলোনিয়া শুল্ক ষ্টেশনের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বিলোনিয়া স্থল বন্দরের বিভিন্ন অবকাঠামোসহ ওপেন ইয়ার্ড করার জন্য ১৫ একর জমি অধিগ্রহনের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায় ছিল, ৬ ধারা নোটিশ ও দেয়া হয়েছিল। হাইকোর্টে রিট করায় প্রক্রিয়াটি থমকে গেছে।

ফেনী প্রতিনিধি/নোয়াখালীনিউজ/এসইউ/১৬ মে

Leave a Reply

Your email address will not be published.